
আসন্ন স্থানীয় সরকার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের হাট-বাজার, গ্রাম ও পাড়া-মহল্লায় নির্বাচনী আলোচনা জমে উঠতে শুরু করেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে চলছে নানা আলোচনা ও হিসাব-নিকাশ। এরই মধ্যে বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে স্থানীয়ভাবে আলোচনায় রয়েছেন মো. আব্দুল হেকিম।
তিনি নির্বাচিত হলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে ইউনিয়নবাসীর কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের নাগরিক সেবা সহজলভ্য করা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং ইউনিয়নের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা পর্যায়ক্রমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
মো. আব্দুল হেকিম বলেন, “জনগণের সেবা করার সুযোগ পেলে ইউনিয়ন পরিষদকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালনা করতে চাই। ইউনিয়নের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। দল-মত ও শ্রেণি-পেশার ঊর্ধ্বে উঠে সবার জন্য কাজ করার চেষ্টা করব।”
তিনি বলেন, বাদাঘাট ইউনিয়ন একটি বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়ন। এ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা, রাস্তাঘাট, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পানি নিষ্কাশন, বিশুদ্ধ পানি, কৃষি ও গ্রামীণ অবকাঠামোসহ নানা বিষয়ে মানুষের প্রত্যাশা রয়েছে। এসব সমস্যা চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে ইতোমধ্যে এলাকায় আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা ও বাজার এলাকায় চায়ের আড্ডা থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে চলছে আলোচনা। ভোটাররা প্রার্থীদের ব্যক্তিগত যোগ্যতা, সামাজিক কর্মকাণ্ড, অতীত ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে পর্যালোচনা করছেন।
সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. আব্দুল হেকিম আরও বলেন, “উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সাধারণ মানুষ যেন ইউনিয়ন পরিষদে এসে হয়রানি ছাড়া সেবা পান, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি। জনগণের অর্থ ও সরকারি বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার এবং উন্নয়নকাজের মান নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দিতে চাই।”
তিনি আরও জানান, ইউনিয়নের তরুণ সমাজকে বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা, শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করা এবং এলাকার পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর।
এদিকে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা বাড়লেও নির্বাচনের চূড়ান্ত চিত্র নির্ভর করবে নির্বাচন কমিশনের তফসিল, মনোনয়ন প্রক্রিয়া এবং প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক অংশগ্রহণের ওপর। ফলে বর্তমানে আলোচনায় থাকা ব্যক্তিদের অনেকেই সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন।
মো. আব্দুল হেকিম বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, একটি ইউনিয়নের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব তখনই, যখন জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ থাকে। জনগণের মতামত ও প্রয়োজনকে সামনে রেখে পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে চাই।”
বাদাঘাট ইউনিয়নের ভোটাররা বলছেন, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, ততই সম্ভাব্য প্রার্থীদের কর্মপরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি নিয়ে আলোচনা বাড়বে। শেষ পর্যন্ত ভোটাররা তাঁদের বিবেচনায় উপযুক্ত প্রার্থী নির্বাচন করবেন—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
তবে মো. আব্দুল হেকিমের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা বর্তমানে সম্ভাব্য পর্যায়ে রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ও মনোনয়নপত্র দাখিলের পরই প্রার্থিতার বিষয়টি চূড়ান্তভাবে স্পষ্ট হবে।
মন্তব্য করুন