ইউরোপে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা এক মামলায় দোয়ারাবাজার উপজেলার মান্নারগাঁও গ্রামের মৃত মজর আলীর ছেলে মো. মিরাস আলী (৬২) এবং তার ভাগিনার স্ত্রী, মৌলভীবাজার জেলার বাসিন্দা মাসুক মিয়ার মেয়ে রিমা আক্তার ওরফে রীশ আক্তার (২৫)-এর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩য় আদালত এ আদেশ দেন।
গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত দুই আসামির মধ্যে মো. মিরাস আলী সম্পর্কে রিমা আক্তার ওরফে রীশ আক্তারের মামা শ্বশুর বলে জানা গেছে।
মামলার বাদী ফারুক আহমদ, যিনি রনকেলী গ্রাম এলাকার মৃত জমির উদ্দিনের ছেলে। তিনি প্রতারণার অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে শ্বশুর-বউ পরিচয়ে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র গড়ে তুলে ইউরোপ গমনেচ্ছুদের টার্গেট করে বিদেশ পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিল। তারা ভুক্তভোগীকে জানায়, রিমা আক্তারের স্বামী এবং মিরাস আলীর ভাগিনা ইতালিতে অবস্থান করেন এবং সেখান থেকে লোক নেওয়ার কাজ করেন। আর দেশ থেকে পুরো কার্যক্রম পরিচালনা করেন তারা।
তবে তদন্তে উঠে এসেছে, রিমা আক্তার ওরফে রীশ আক্তারের সঙ্গে তার স্বামীর কোনো সম্পর্ক নেই। এরপরও মামা শ্বশুরের সঙ্গে মিলে এই প্রতারণা চক্র পরিচালনা করে আসছিলেন তিনি। এভাবে ভুক্তভোগী ফারুক আহমদের কাছ থেকে ইতালি পাঠানোর কথা বলে প্রায় ৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে গত ২৬ এপ্রিল গোলাপগঞ্জ থানা-য় এ ঘটনায় সিআর-২২৯১/২০২৬ নম্বরে একটি প্রতারণা মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার প্রাথমিক তদন্ত ও অভিযোগের সত্যতা যাচাই শেষে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। আদালতের আদেশে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ ও সিলেট জেলা পুলিশ-এর তত্ত্বাবধানে দ্রুত পরোয়ানা তামিল করে আসামিদের আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন