কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নে দায়সারাভাবে ভূমি সেবা মেলা পালনের অভিযোগ উঠেছে। মেলার সমাপনী দিনে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা (তহশীলদার) আক্তারুল ইসলাম সেলিমকে অফিস কক্ষে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সেবাপ্রার্থীরা। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, “জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা; সুরক্ষিত ভূমি, সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ” প্রতিপাদ্যে আয়োজিত তিনদিনব্যাপী ভূমি সেবা মেলার শেষ দিনে অফিস প্রাঙ্গণে কাপড়, ফুল, বেলুন ও ফেস্টুন দিয়ে সাজসজ্জা করা হলেও সেবা কার্যক্রমে ছিল চরম অব্যবস্থাপনা। সকাল ১১টা পর্যন্ত ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা অফিস কক্ষে ঘুমিয়ে থাকায় সেবা নিতে আসা অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে ফিরে যান।
সেবাপ্রার্থী হোছন নামের এক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, “এসব শুধু লোক দেখানো আয়োজন। এই তহশীলদার প্রায় সময়ই দেরিতে অফিসে আসেন। এসে পান চিবাতে চিবাতে বসে থাকেন। টাকা ছাড়া কোনো কাজ করেন না।”
আরেক সেবাপ্রার্থী হ্নীলা আলী আকবরপাড়া এলাকার মুখতার আহমদ বলেন, “সকাল ১০টার আগেই অফিসে এসেছি। এখন ১১টা পেরিয়ে গেছে, অথচ তহশীলদার এখনো ঘুম থেকে ওঠেননি। অফিসের প্রধান কর্মকর্তা যদি এভাবে দায়িত্ব পালন করেন, তাহলে সাধারণ মানুষ কীভাবে সেবা পাবে?”
এ বিষয়ে টেকনাফ সাংবাদিক সমিতির আহ্বায়ক মমতাজুল ইসলাম মনু বলেন, “সকাল ১০টার দিকে ভূমি সেবা মেলা দেখতে এসে দেখি অফিস কার্যত অচল। ঘড়ির কাঁটা ১১টা ১০ মিনিট ছুঁইছুঁই, অথচ সহকারী ভূমি কর্মকর্তা তখনও ঘুমিয়ে। এতে সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা হিসেবে আক্তারুল ইসলাম সেলিম যোগদানের পর থেকে অফিসে অনিয়ম বেড়েছে। নামজারি মামলা ও ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধে মানুষকে হয়রানি ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হ্নীলা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আক্তারুল ইসলাম সেলিম বলেন, “আমি রুমের ভেতরে ছিলাম। ছেলেরা বাইরে ছিল। প্রয়োজন হলে আমাকে ডাকতে পারতেন।” পরে কিছুটা তাচ্ছিল্যের সুরে তিনি বলেন, “আমাকে ঘুম থেকে ডেকে দেওয়ার দায়িত্ব আপনাদের।” এ ব্যাপারে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনিক চৌধুরী বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মন্তব্য করুন