পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় জামায়াত নেতা ও স্থানীয় শিক্ষক জিল্লুর রহমানকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। এ ঘটনায় এজাহারভুক্ত একজনসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মামলায় এজাহারনামীয় ১০ জন ও অজ্ঞাত আরও ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। ভাঙ্গুড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আল আমিন জানান, আহত জিল্লুর রহমানের ভাই হাচেন আলি বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাত ১১টার দিকে মামলাটি দায়ের করেন।
ঘটনার বিবরণ
আহত জিল্লুর রহমান (৫০) ভাঙ্গুড়া উপজেলার দাশমরিচ গ্রামের বাসিন্দা। তিনি খানমরিচ ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি এবং পেশায় শিক্ষক।
স্থানীয় জামায়াত নেতাদের বরাতে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে জিল্লুর রহমানকে দেখে আব্দুর রহমানসহ কয়েকজন কটূক্তি করেন। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে জিল্লুর রহমানের সঙ্গে থাকা একজনকে চড় মারা হয়। এ ঘটনার জের ধরে রাত ৮টার দিকে আব্দুর রহমান তার সহযোগীদের নিয়ে রাস্তায় একা পেয়ে জিল্লুর রহমানকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যান।
আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গ্রেপ্তার ও তদন্ত
পুলিশ অভিযান চালিয়ে দাশমরিচ গ্রামের আয়নাল হোসেন ও তার ছেলে হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তারা স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।
ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিউল আযম বলেন, “মামলা দায়েরের পর দ্রুত অভিযান চালিয়ে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
জামায়াতের প্রতিক্রিয়া
ঘটনার পরপরই পাবনা-৩ আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য মাওলানা আলী আছগার দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ভাঙ্গুড়া থানায় যান এবং দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ করেন।
তিনি বলেন, “আমার নেতাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মৃতপ্রায় অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে থানায় গিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছি।”
পুলিশ জানিয়েছে, আহতের সুস্থতা ও ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
মন্তব্য করুন