জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক মনোজ্ঞ সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক আসর।
শুক্রবার (২২ মে ২০২৬) চাঁপাইনবাবগঞ্জ ইউনিটের উদ্যোগে এবং বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের সহযোগিতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সাহিত্যপ্রেমী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিল্পস্বরের সিইও ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, চাঁপাইনবাবগঞ্জের উপস্থাপনা শৈলী প্রশিক্ষক কাব্য মোল্লা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ফয়সাল আজম অপু, সভাপতি, সোনামসজিদ প্রেসক্লাব চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফয়সাল আজম অপু বলেন, “সাহিত্য মানুষের হৃদয়ের ভাষা। কবিতা, গল্প কিংবা আবৃত্তি শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং সমাজকে আলোকিত করার শক্তিশালী হাতিয়ার। বর্তমান সময়ে তরুণ প্রজন্মকে বইয়ের প্রতি আকৃষ্ট করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও এ ধরনের আয়োজন সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।” তিনি আরও বলেন, এই আয়োজন নতুন প্রজন্মের মাঝে মানবিক মূল্যবোধ ও সৃজনশীলতা বিকাশে সহায়ক হবে।
সভাপতির বক্তব্যে কাব্য মোল্লা বলেন, “আজকের এই আয়োজন শুধুমাত্র একটি অনুষ্ঠান নয়, এটি আমাদের মনন, চিন্তা ও মানবিকতার এক মিলনমেলা। সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে একটি আলোকিত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব, আর সেই লক্ষ্যেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।” তিনি ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাজী রাউফুর রাহীম, লাইব্রেরি ইনচার্জ, জেলা ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র; এইচ.এম.এল.এইচ. রাজু, চেয়ারম্যান, শিক্ষাস্বর ও ট্রেড প্রধান, কোরিয়ান ভাষা বিভাগ, টিটিসি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ; দীপক কুমার রায়, সহকারী লাইব্রেরিয়ান, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র; এবং আম্বিয়া খাতুন মিলি, প্রধান শিক্ষক, সুইড বাংলাদেশ বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
অনুষ্ঠানে কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা, বইপাঠ এবং কবিতা আবৃত্তি পরিবেশন করা হয়। শিশু শিল্পীদের মধ্যে রাশিদা ও মাসুমা আনজুম আবৃত্তি পরিবেশন করে উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করেন।
এছাড়া অভিভাবকদের মধ্যে সুমন শমন্ত, আসমাউল হুসনা ও তমা সূত্রধরসহ আরও অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
পুরো আয়োজনটি ছিল প্রাণবন্ত ও অনুপ্রেরণামূলক, যা অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সাহিত্যপ্রেম ও সাংস্কৃতিক চর্চার নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
মন্তব্য করুন