সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলা-এর ৪ নং বড়দল উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন জনপ্রতিনিধির নেতৃত্বে পরিচালিত হয়ে আসছে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ইউনিয়নের উন্নয়ন, অবকাঠামো, শিক্ষা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন সাবেক ও বর্তমান চেয়ারম্যানরা। আর সেই ধারাবাহিকতায় এখন ইউনিয়নজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু— “পরবর্তীতে কে আসছেন ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বে?”
ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম চেয়ারম্যান ছিলেন জনাব রোস্তম আলী। তিনি ১৯৭২ সাল থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে ইউনিয়নের প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা এবং জনসেবামূলক কার্যক্রম চালু করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বলে স্থানীয়রা জানান।
পরবর্তীতে মো. তমিজ উদ্দিন ১৯৭৮ সাল থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছিলেন ইউনিয়নের দ্বিতীয় চেয়ারম্যান। তার সময়ে প্রশাসনিক কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ও জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি পায়।
এরপর মোঃ আবু তাহের ১৯৮৪ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি পুনরায় জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে ১৯৯১ সাল থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একাধিক মেয়াদে দায়িত্ব পালনকালে ইউনিয়নের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করেন তিনি।
১৯৮৮ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন নিজাম উদ্দিন তালুকদার। স্থানীয়দের মতে, তিনি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে ইউনিয়নের জনগণের আস্থা অর্জন করেছিলেন।
এছাড়াও ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ আবুল কাশেম দুইবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি পরবর্তীতে তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ-এর চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তার সময়ে ইউনিয়নের বিভিন্ন সামাজিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়।
৪ নং বড়দল উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন মোঃ জামাল উদ্দিনও। স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে তার সক্রিয় ভূমিকার কথা এখনও স্মরণ করেন এলাকাবাসী।
বর্তমানে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মোঃ মাসুক মিয়া। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বে থেকে স্থানীয় জনগণের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান, রাস্তা-ঘাট উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়নসহ নানা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন।
এদিকে চলতি বছরের শেষ দিকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় এরই মধ্যে ইউনিয়নের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা, হাট-বাজার ও চায়ের দোকানে শুরু হয়েছে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা। স্থানীয়দের মুখে এখন একটাই প্রশ্ন— “আগামী দিনের চেয়ারম্যান কে হচ্ছেন?”
সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। কেউ বলছেন নতুন নেতৃত্ব প্রয়োজন, আবার কেউ অভিজ্ঞ নেতৃত্বের পক্ষেই মত দিচ্ছেন। ইতোমধ্যে কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থী এলাকায় গণসংযোগ, সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় শুরু করেছেন বলেও জানা গেছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বড়দল উত্তর ইউনিয়নের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার পেছনে সাবেক ও বর্তমান চেয়ারম্যানদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। তাই আগামী নির্বাচনে জনগণ এমন একজন জনপ্রতিনিধিকে বেছে নিতে চান, যিনি উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে সক্ষম হবেন।
নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা না হলেও ইউনিয়নজুড়ে এখন থেকেই বইছে নির্বাচনী হাওয়া। চায়ের দোকান থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম— সর্বত্র এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু বড়দল উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের আগামী নেতৃত্ব।
মন্তব্য করুন