
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে মাহারাম নদীর শাখা শান্তিপুর এলাকায় নদীর পাড় কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও ট্রলির মাধ্যমে পরিবহনের অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে একজনকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অপর একজনকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) সকালে শান্তিপুর নদীর উত্তর পাড় এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। তাহিরপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এ. বিএম. এস. আর. আলিফের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে তাহিরপুর থানার পুলিশ সদস্যরা সহযোগিতা করেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, শান্তিপুর নদীর পাড় কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে ট্রলির মাধ্যমে পরিবহনের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে লাল মিয়া (৫৪)কে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর আওতায় ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। একই অভিযানে হোসেন আলী (২২)কে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
এদিকে একই দিন সকালে জাদুকাটা নদীর ঘাগটিয়া আদর্শ গ্রাম সংলগ্ন এলাকাতেও অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা প্রশাসন। সেখানে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দাদের নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন না করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভাঙনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি অনুমোদনবিহীনভাবে বালু উত্তোলন ও পরিবহন অব্যাহত থাকলে নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ ও স্থানীয় জনজীবনে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে আরও কারা জড়িত, কতদিন ধরে এ কার্যক্রম চলছিল এবং উত্তোলিত বালু কোথায় পরিবহন করা হচ্ছিল—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এসব বিষয় তদন্তসাপেক্ষ।
অভিযান পরিচালনাকারী তাহিরপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এ. বিএম. এস. আর. আলিফ জানিয়েছে, নদী ও পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলন ও পরিবহনের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। আইন অমান্য করে বালু উত্তোলন বা পরিবহনের অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন