
‘আমার ভিশন, তাহিরপুর উপজেলায় কেউ যেন নিরক্ষর না থাকে’—এই লক্ষ্য সামনে রেখে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার শিমুল বাগানে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে কাজ করছেন সমাজসেবক নুরুদ্দিন। গত দুই মাস ধরে প্রতি শনিবার নিয়মিতভাবে শিশুদের পাঠদান, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, খেলাধুলা ও খাবারের আয়োজন করে আসছেন তিনি।
এরই ধারাবাহিকতায় ১১ অক্টোবর রোববার আসরের নামাজের পর সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে একটি ক্লাস ও আনন্দঘন আয়োজন করা হয়। এতে শিশুদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলার সুযোগ দেওয়া হয় এবং তাদের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়। শিশুদের মৌলিক শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়ানো এবং আনন্দমুখর পরিবেশে শেখার সুযোগ তৈরি করাই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
উদ্যোক্তা নুরুদ্দিনের উদ্যোগে এর আগে শিশুদের মধ্যে বই, খাতা-কলম ও খেলাধুলার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। নিয়মিত সাপ্তাহিক ক্লাসের মাধ্যমে শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি মজবুত করার পাশাপাশি তাদের মধ্যে পড়াশোনার আগ্রহ তৈরি করার চেষ্টা চলছে।
আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ক্রাশার সমিতির সদস্য নুর আলী। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেন জুনায়েদ আহমদ রাব্বেল, মহিউদ্দিন রাজন ও রাকিব।
সমাজসেবক নুরুদ্দিনের এই উদ্যোগের মূল ভাবনা হলো, আর্থিক অসচ্ছলতা কিংবা সুযোগের অভাবে কোনো শিশু যেন শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত না হয়। সমাজের বিত্তবান ও সচেতন ব্যক্তিরা এগিয়ে এলে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার। প্রত্যন্ত অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কাছে শিক্ষার সুযোগ পৌঁছে দিতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নিয়মিত পাঠদান, প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ এবং শিশুদের জন্য আনন্দমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে তাদের বিদ্যালয়মুখী করার পাশাপাশি নিরক্ষরমুক্ত তাহিরপুর গড়ার প্রচেষ্টাও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
উদ্যোক্তার প্রত্যাশা, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তাহিরপুর উপজেলার প্রতিটি শিশুর কাছে শিক্ষার আলো পৌঁছে যাবে এবং কোনো শিশু নিরক্ষর থাকবে না।
মন্তব্য করুন