রোকসানা পারভিন খুলনা
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার আহসানিয়া ঘোজাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানি সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জানিয়েও কোনো প্রতিকার না পেয়ে অবশেষে ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও এলাকাবাসী সম্মিলিত আন্দোলনের মাধ্যমে ওই শিক্ষককে বিদ্যালয় থেকে বিতাড়িত করেছেন। সম্প্রতি এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের সাথে অসদাচরণ, যৌন হয়রানি এবং নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠছিল। সর্বশেষ এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির ঘটনা কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী জানান, এই বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা ও শিক্ষকের অপসারণ চেয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ও শিক্ষা অফিসে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। তবে দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা বা প্রতিকার মেলেনি।
প্রশাসনের এই নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষুব্ধ হয়ে আজ বুধবার বিদ্যালয়ের অভিভাবক ও এলাকাবাসী একজোট হয়ে স্কুল প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ শুরু করেন। আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করলে তোপের মুখে পড়ে অভিযুক্ত শিক্ষক শহিদুল ইসলাম তড়িঘড়ি করে বিদ্যালয় ত্যাগ করতে বাধ্য হন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, উত্তেজিত এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা স্লোগান দিচ্ছেন এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে বিদ্যালয় থেকে বের করে দিচ্ছেন।
এই বিষয়ে ক্ষুব্ধ এক অভিভাবক বলেন, “আমরা আমাদের সন্তানদের শিক্ষার আলো নিতে স্কুলে পাঠাই, কিন্তু শিক্ষকের রূপধারী এমন মানুষের কাছে আমাদের সন্তানরা নিরাপদ নয়। বারবার অভিযোগ করেও যখন প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি, তখন আমরা বাধ্য হয়ে আমাদের সন্তানদের রক্ষায় আন্দোলনে নেমেছি।
ঘটনার বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
কালিগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “অভিযোগের বিষয়টি আমরা জেনেছি। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুতই আইনানুগ ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো অবস্থাতেই বিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট হতে দেওয়া হবে না।
এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত তদন্ত কমিটির মাধ্যমে এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার করা হোক এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক যাতে ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষক এমন অপরাধ করার সাহস না পান।
মন্তব্য করুন