রোকসানা পারভিন, খুলনা: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে নারীদের আত্মনির্ভরশীল ও স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে মহৎপুর কল্যাণ সংস্থা। বিনামূল্যে সেলাই প্রশিক্ষণ নেওয়া নারীদের তৈরি পণ্য বাজারজাত ও প্রচারের লক্ষ্যে ‘স্বপ্নবুনন’ নামে একটি অফিসিয়াল পেজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
গত রোববার বিকেল ৪টায় মহৎপুর কল্যাণ সংস্থার নিজস্ব কার্যালয়ে ফিতা কাটা ও কেক কাটার মধ্য দিয়ে পেজটির উদ্বোধন করা হয়। এলাকার নারীদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে তাঁদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সংস্থার সভাপতি ও কর্মকর্তারা।
প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীদের হাতে তৈরি বুটিকস, হ্যান্ড প্রিন্টিং, ব্লক, বাটিক ও হাতের নকশার বিভিন্ন পণ্য ‘স্বপ্নবুনন’ পেজের মাধ্যমে বাজারজাত ও প্রচারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে সালোয়ার-কামিজ, ওড়না, শাড়ি, চাদর, পাঞ্জাবি, ফতুয়া ও বিছানার চাদর।
সংস্থার সহ-সভাপতি ওয়াহিদা সুলতানা শিউলির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার উপদেষ্টা অধ্যাপক মো. আব্দুল হান্নান। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক এস.কে. আব্দুল্লাহ আল সাইদ (এএসপি) এবং যুগ্ম সম্পাদক জি. এম. আতিয়ার রহমান (সহকারী অধ্যাপক)।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংস্থার কর্মকর্তা খান নাছরুল্লাহ, জি. এম. আবু আব্দুল্লাহ আল হাসান, এস.কে. আব্দুল্লাহ আল শাকিল, মাস্টার শেখ আনিছুর রহমান, প্রধান প্রশিক্ষক মুক্তি নাছরুসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
সভাপতির বক্তব্যে ওয়াহিদা সুলতানা শিউলি বলেন, “আপনাদের সহযোগিতায় মহৎপুর কল্যাণ সংস্থা আরও অনেক দূর এগিয়ে যেতে চায়। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের কল্যাণে কাজ করা, সমাজের অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের মুখে হাসি ফোটানো। ভবিষ্যতেও আমাদের এই মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
সংস্থা সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মহৎপুর কল্যাণ সংস্থা এলাকার অসহায় ও দুস্থ মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে খাদ্যসহায়তা, দুরারোগ্য ব্যাধিতে আর্থিক সহযোগিতা, ধর্মীয় উৎসবে উপহার ও শীতবস্ত্র বিতরণ, দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের বই, স্কুলব্যাগ ও বাইসাইকেল প্রদান এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের হুইলচেয়ার বিতরণ এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য।
এ ছাড়া নারীদের বিনামূল্যে সেলাই প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন বিতরণ করছে সংস্থাটি। নিজস্ব অর্থায়নে দুটি মসজিদে মক্তবের মাধ্যমে প্রায় ১৩০ থেকে ১৪০ জন নারীকে বিনামূল্যে ধর্মীয় ও আরবি শিক্ষাও দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ‘স্বপ্নবুনন’ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীরা নিজেদের তৈরি পণ্য বাজারে তুলে ধরার সুযোগ পাবেন। এতে তাঁদের দক্ষতার স্বীকৃতির পাশাপাশি আয় ও আত্মনির্ভরশীলতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
মন্তব্য করুন