বর্তমান সময় তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। প্রতিদিন অসংখ্য সংবাদ, মতামত ও তথ্য মানুষের হাতে পৌঁছে যাচ্ছে মুহূর্তেই। এই প্রবাহের কেন্দ্রে রয়েছেন সাংবাদিকরা—যারা সমাজের অসঙ্গতি, দুর্নীতি, অন্যায় ও জনগণের সমস্যা তুলে ধরে রাষ্ট্র ও সমাজকে সচেতন করার দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আজ সাংবাদিকদের সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নানাভাবে নির্যাতন, হামলা, মামলা, অপপ্রচার ও প্রাণহানির মতো ভয়াবহ ঘটনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
দেশের বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশ কিংবা দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরার কারণে সাংবাদিকদের ওপর শারীরিক হামলার ঘটনা বাড়ছে। অনেক সময় প্রভাবশালী মহল সত্য প্রকাশ ঠেকাতে সাংবাদিকদের ভয়ভীতি দেখানো, মিথ্যা মামলা দায়ের কিংবা সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালিয়ে তাদের পেশাগত ও ব্যক্তিগত সম্মান ক্ষুণ্ন করার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
শুধু তাই নয়, অনেক সাংবাদিক পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাণও হারিয়েছেন। কেউ সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হয়েছেন, কেউ আবার দুর্বৃত্তদের রোষানলে পড়ে চরম মূল্য দিয়েছেন। এসব ঘটনা শুধু একজন সাংবাদিকের ক্ষতি নয়; এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রের জন্য বড় হুমকি।
একজন সাংবাদিক সমাজের দর্পণ। তিনি জনগণের ভাষা রাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দেন এবং রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাই সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তাদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করা এবং পেশাগত স্বাধীনতা রক্ষা করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব।
আজ প্রয়োজন সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সকল ধরনের সহিংসতা, মিথ্যা মামলা ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান গ্রহণ করা। একইসঙ্গে সাংবাদিকদেরও বস্তুনিষ্ঠতা, নৈতিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে, যাতে মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হয়।
সত্যের পথ কখনও সহজ নয়। তবুও সাংবাদিকরা কলম হাতে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলে যাচ্ছেন। কারণ তারা বিশ্বাস করেন—একটি সচেতন সমাজ, একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র এবং একটি মানবিক বাংলাদেশ গঠনে স্বাধীন ও নিরাপদ সাংবাদিকতার বিকল্প নেই।
মোঃ আঃ মান্নান, উপ-মহাসচিব,
বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদ (বিএসকেপি)
মন্তব্য করুন