শেরপুরের শ্রীবরদীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দু’পক্ষের সংর্ঘষে আশারাফুল ইসলাম (৩২) নামে একজন নিহত হয়েছে। সোমবার (১৮ মে) সকালে দু’পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষে উপজেলার খড়িয়াকাজিরচর ইউনিয়নের মাদারপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আশরাফুল ইসলাম (৩৩) খড়িয়াকাজিরচর ইউনিয়নের মাদারপুর এলাকার মৃত কালু মিয়ার ছেলে।
এ ঘটনায় মাদারপুর এলাকার নিহত আশরাফুলের ভাই মাহা আলম (৫০), হাজেরাসহ উভয়পক্ষের প্রায় ১৫ জন আহতের খবর পাওয়া গেছে। আহতরা শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, শেরপুর জেলা হাসপাতাল ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার খড়িয়াকাজির চর ইউনিয়নের মাদারপুর গ্রামের ইউপি সদস্য নুরুল আমিনের সাথে একই এলাকার মৃত কালু মিয়ার ছেলে আশরারুল ইসলামের সাথে দীর্ঘদিন যাবত জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। গত ১৬ মে শনিবার নুরুল আমিন মেম্বার তার লোকজন নিয়ে রাতে ৯ টার দিকে আশরাফুল ইসলামের বাড়িতে হামলা ও বসত বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এঘটনায় আশরাফুল ইসলাম বাদী হয়ে নুরল আমিন মেম্বার সহ ১১ জনকে আসামী করে ১৭ মে দুপুরে শ্রীবরদী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে। এরই জের ধরে ১৮ মে সোমবার সকালে পুনরায় নুরুল আমিন মেম্বার তার লোকজন নিয়ে আশরাফুলের বাড়িতে হামলা করে। এসময় দু’পক্ষের সংঘর্ষে আশরাফুল ইসলাম সহ অনেকেই গুরুত্বর আহত হয়। পরে আহতদের শেরপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আশরাফুলকে মৃত ঘোষণা করে।
এছাড়া আশঙ্কাজনক অবস্থায় কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে। এঘটনায় উভয়পক্ষের কমপক্ষের প্রায় ১৫ জন আহত হয়েছে। এদিকে আশরাফুল ইসলামের মৃত্যুর খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন নুরুল আমিন মেম্বারের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শ্রীবরদী থানা কোন মামলা দায়ের হয়নি।
শ্রীবরদী থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ নুরুল আলম বলেন, তদন্ত চলছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
মন্তব্য করুন