সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে জোরপূর্বক চেক ও স্ট্যাম্প ছিনিয়ে নিয়ে মিথ্যা মানব পাচার মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগে গত ২৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন মোছাঃ শোবি বেগম নামের এক নারী।
লিখিত আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, তিনি একজন অসহায় নারী এবং তার স্বামী ইতালি প্রবাসী। আত্মীয়তার সূত্র ধরে এলাকার এলাখ মিয়া তার মেয়ের জামাই ইমরান হোসেন আদিলকে ইতালি পাঠানোর জন্য শোবি বেগমের কাছ থেকে ধার হিসেবে টাকা নেন। এ জন্য তিনি বিভিন্ন স্থান থেকে সুদে ঋণ নিয়ে মোট ১৭ লাখ টাকা প্রদান করেন বলে দাবি করেন।
অভিযোগে বলা হয়, ইমরান হোসেন আদিল ইতালি পৌঁছানোর পর পাওনা টাকা ফেরত চাইলে এলাখ মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা উল্টো শত্রুতা শুরু করেন। পরে গত ২৪ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে এলাখ মিয়া, কাউছার মিয়া, দিলদার মিয়া ও সজুনা আক্তার খাদিজা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তার সাদিপুরস্থ বাড়িতে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ করেন শোবি বেগম।
তিনি জানান, অভিযুক্তরা ঘরের মালামাল তছনছ করে ইসলামী ব্যাংক জগন্নাথপুর শাখার তার নামে থাকা চেক বই থেকে স্বাক্ষর করা পরপর তিনটি চেক জোরপূর্বক ছিঁড়ে নিয়ে যায়। একই সঙ্গে ১০০ টাকার তিনটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিতে চাপ প্রয়োগ করা হয়। স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে লোহার পাইপ, লাঠি, রড ও বৈদ্যুতিক তার দিয়ে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
একপর্যায়ে প্রাণ রক্ষার্থে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করতে বাধ্য হন বলে দাবি করেন শোবি বেগম। পরে অভিযুক্তরা মামলা বা বিচার চাইলে প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, ঘটনার পর গুরুতর আহত হলেও অভিযুক্তদের বাধার কারণে তিনি হাসপাতালে গিয়ে পুলিশ কেস করতে পারেননি। পরবর্তীতে অভিযুক্তরা জালিয়াতির মাধ্যমে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ব্যবহার করে তার ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে সুনামগঞ্জ মানব পাচার আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটির নম্বর ০৬/২০২৬।
এদিকে, ছিনতাই হওয়া চেক ও স্ট্যাম্প উদ্ধারের দাবিতে শোবি বেগম অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পৃথক একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেছেন, যার নম্বর ১৬০/২০২৬।
আবেদনে তিনি আরও উল্লেখ করেন, মামলায় তার দুই ভাইকে লিবিয়ায় মানুষ আটকে রেখে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে জড়ানো হয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে তার ভাইদের কোনো খোঁজখবর পরিবার জানে না বলেও দাবি করেন তিনি।
এছাড়া মামলার ১ নম্বর সাক্ষী মোঃ সোমন হোসেনের কাছ থেকে নেয়া ঋণের টাকা ইতোমধ্যে গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে পরিশোধ করা হয়েছে বলে দাবি করেন শোবি বেগম। তার অভিযোগ, ব্যাংক সংক্রান্ত কাগজপত্র জালিয়াতির মাধ্যমে মিথ্যা মামলায় ব্যবহার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং তিনি ও তার পরিবারের সদস্যদের মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন মোছাঃ শোবি বেগম।
মন্তব্য করুন