
ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাহিদ পারভেজের বিরুদ্ধে অপহরণ, মারধর ও ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা দায়েরের পর ঘটনাটি নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। তবে পুলিশের একটি প্রতিবেদন ও স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, মামলার অভিযোগের সঙ্গে এসআই নাহিদ পারভেজের সম্পৃক্ততার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে মামলার বাদী নাজমুল হকের পরিবারের বিরুদ্ধেও প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন ও আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
বিশ্বস্ত সূত্র ও স্থানীয় কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি জানান, মামলার বাদী নাজমুল হকের বাবা জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে ত্রিশাল থানার সিআর মামলা নং-৩১২/২৫-এ দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০ ও ৫০৬ ধারায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। ওই পরোয়ানার ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন বলে সূত্র দাবি করেছে।
একই মামলায় নাজমুলের ভাই উৎপল মিয়া ও উজ্জ্বল আহমেদের বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে এবং তারা পলাতক রয়েছেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।
সূত্রগুলোর দাবি, নাজমুলের বাবা ও ভাইদের কাছে স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তির টাকা পাওনা রয়েছে। এসব পাওনা টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময় তাদের বাড়িতে পাওনাদারদের যাতায়াত ছিল। এ নিয়ে তাদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন অভিযোগ ও ঘটনার অবতারণা করা হয়েছে বলেও সূত্রগুলো দাবি করেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে আজিজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন, নাজমুলের পরিবারের কয়েকজন সদস্য বিদেশে পাঠানোর কথা বলে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা নিয়েছেন। পরে তারা আত্মগোপনে চলে যান বলে তার অভিযোগ। ত্রিশাল থানা পুলিশের পক্ষ থেকেও ওই পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা আদালতে বিচারাধীন থাকার কথা জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে নাজমুল হকের পরিবারের পক্ষ থেকে এসআই নাহিদ পারভেজসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে তাকে অপহরণ, মারধর এবং ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে এ ঘটনায় ত্রিশাল থানায় মামলা নথিভুক্ত করা হয়।
তবে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নথি ও তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনায় এসআই নাহিদ পারভেজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে একটি সূত্র দাবি করেছে। থানার সাধারণ ডায়েরি (জিডি), নাজমুলের করা অভিযোগ, মামলার কাগজপত্র, পত্রিকার প্রতিবেদন ও ভয়েস রেকর্ডিংসহ বিভিন্ন তথ্য পর্যালোচনা করা হয়েছে বলে সূত্রটি জানায়।
একই সূত্রের দাবি, ত্রিশাল থানার রেজিস্টার পর্যালোচনা করেও নাজমুল হক থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ করেছিলেন—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। এমনকি তিনি মৌখিকভাবেও বিষয়টি থানার কোনো কর্মকর্তাকে জানিয়েছিলেন কি না, সে সম্পর্কিত কোনো রেকর্ডও পাওয়া যায়নি বলে সূত্রটি জানিয়েছে।
এ বিষয়ে ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর আহম্মেদ বলেন, “বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। এ বিষয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না।”
অভিযোগ ও পাল্টা-অভিযোগের মধ্য দিয়ে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে প্রকৃত ঘটনা কী এবং অভিযোগগুলোর সত্যতা কতটুকু—তা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া ও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।
মন্তব্য করুন