সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার সারি-৩ বালুমহাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়েছে। পরিদর্শনে সারি-৩ বালুমাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কোনো সত্যতা বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
গত ১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত এ পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন জৈন্তাপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি), ১৯ বিজিবি, আখালিয়া, সিলেটের সহকারী পরিচালক (এডি) এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ। তারা সারি-৩ বালুমহাল ও বড় গাং বালুমহাল ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, সারি-৩ বালুমহাল থেকে কোনো ধরনের বালু উত্তোলন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে না। অন্যদিকে বড় গাং বালুমহালের ইজারাদাররা তাদের বৈধভাবে ইজারাকৃত নির্ধারিত এলাকা থেকে বালু উত্তোলন করছেন।
এ সময় অভিযোগকারীদের উপস্থিত কয়েকজনের কাছে সারি-৩ বালুমহালের কোন স্থান থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে জানতে চাইলে তারা জানান, সারি-৩ থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে না। তবে বড় গাং বালুমহালের বালুবাহী নৌকাগুলো সারিঘাটে যাতায়াতের জন্য সারি-৩ নদীপথ ব্যবহার করে।
বড় গাং বালুমহালের ইজারাদারদের দাবি, তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, সিলেট থেকে বৈধভাবে বালুমহাল ইজারা নিয়ে নির্ধারিত এলাকা থেকে বালু উত্তোলন ও পরিবহন করছেন। তাদের ভাষ্য, বড় গাং বালুমহাল থেকে সারিঘাটে পৌঁছাতে সারি-৩ নদীপথই একমাত্র চলাচলের পথ।
ইজারাদাররা আরও জানান, সারি-৩ বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলনের ওপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ওই নদীপথে নৌযান চলাচলের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। এ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়ায় তারা জেলা প্রশাসক ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ এবং নৌযান চলাচল সংক্রান্ত লিখিত নির্দেশনা চেয়েছেন। পূর্বেও একই বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদীপথে নৌযান চলাচলে কোনো আপত্তি নেই বলে লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল বলে তারা দাবি করেন।
এছাড়া ইজারাদারদের অভিযোগ, একটি পক্ষ বিভিন্নভাবে তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে অর্থ দাবি করছে। বৈধভাবে ইজারা নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করলেও তারা অযৌক্তিক হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন।
পরিদর্শনকালে ১৯ বিজিবির সহকারী পরিচালক (এডি) বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও তৎপর রয়েছে।
জৈন্তাপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) বলেন, সারি-৩ নদী বালুমহাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেলে উপজেলা প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তিনি জানান, এর আগেও অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি সাংবাদিকদের সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি অবৈধ কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য দিয়ে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
মন্তব্য করুন