মো:শুকুর আলী, স্টাফ রিপোর্টারঃ
একুশ শতকের চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), তথ্যপ্রযুক্তি, ফ্রিল্যান্সিং, উচ্চশিক্ষা ও বৈশ্বিক শ্রমবাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে ইংরেজি ভাষায় ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ইংরেজি শিক্ষক এমদাদুল হক মিলন।
তিনি মনে করেন, শুধু পরীক্ষায় ভালো নম্বর বা সনদ অর্জন করলেই বর্তমান বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সফল হওয়া সম্ভব নয়। শিক্ষার্থীদের বিশেষ করে ইংরেজিতে শোনা ও বলার দক্ষতা বাড়ানো জরুরি। ইংরেজিকে কেবল পরীক্ষার বিষয় হিসেবে না দেখে যোগাযোগের ভাষা ও জীবনদক্ষতা হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি এক মতামতধর্মী লেখায় এমদাদুল হক মিলন বলেন, বাংলাদেশের বড় একটি অংশ তরুণ জনগোষ্ঠী। এই জনমিতিক সুবিধাকে কাজে লাগাতে শুধু সনদধারী গ্র্যাজুয়েট তৈরি করলেই হবে না; দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে ব্যবহারিক ইংরেজি দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তার মতে, দেশের শিক্ষার্থীরা বছরের পর বছর ইংরেজি পড়লেও অনেকেই বাস্তব জীবনে স্বাভাবিকভাবে ইংরেজিতে কথা বলতে গিয়ে সমস্যায় পড়ে। এর অন্যতম কারণ পরীক্ষাকেন্দ্রিক ও মুখস্থনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা। শিক্ষার্থীদের ভাষা ব্যবহারের পরিবর্তে পরীক্ষায় নম্বর পাওয়ার দিকে বেশি মনোযোগী করে তোলায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
লেখায় ২০২৬ সালের মাধ্যমিক ও সমমান পরীক্ষার বিষয়ভিত্তিক ফলাফলের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলা হয়েছে, সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে কয়েকটিতে ইংরেজি বিষয়ে পাসের হার ৭৫ শতাংশের নিচে রয়েছে। সিলেট বোর্ডে ইংরেজিতে পাসের হার ৬৯ দশমিক ১১ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে ৬৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ। তবে শুধু পাসের হার দিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত ভাষাগত দক্ষতা নির্ধারণ করা যায় কি না, সেটিও বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে মত দিয়েছেন তিনি।
ইংরেজি শিক্ষার দুর্বলতার পেছনে পরীক্ষাকেন্দ্রিক পাঠদান, দক্ষ শিক্ষকের ঘাটতি, দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষার সুযোগের সীমাবদ্ধতা এবং অভিভাবকদের ফলাফলকেন্দ্রিক মানসিকতাকে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইংরেজি শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে কয়েকটি সুপারিশও তুলে ধরেছেন এমদাদুল হক মিলন। এর মধ্যে রয়েছে পাবলিক পরীক্ষায় Speaking ও Listening মূল্যায়ন যুক্ত করা, ইংরেজি শিক্ষকদের Communicative Language Teaching (CLT), Spoken English, Pronunciation ও ICT-assisted teaching বিষয়ে ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ দেওয়া।
এ ছাড়া হাওর, চর ও পাহাড়ি অঞ্চলে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য বিশেষ এলাকা ভাতা বা প্রণোদনা চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে প্রত্যন্ত এলাকায় দক্ষ শিক্ষক ধরে রাখা এবং শহর ও গ্রামের শিক্ষার বৈষম্য কমানো সম্ভব হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে ‘Why English Matters Beyond Exams’ শীর্ষক জাতীয় সচেতনতা কর্মসূচি চালুরও প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ইংরেজি-ভীতি দূর করতে বিদ্যালয় পর্যায়ে নিয়মিত Communication Skill Workshop ও Career Counselling আয়োজনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
লেখক বলেন, ইংরেজি বাংলাদেশের মাতৃভাষা নয়, তবে বিশ্বায়নের যুগে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, উচ্চশিক্ষা, প্রযুক্তি, ফ্রিল্যান্সিং ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাই শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষায় পাস করানোর পরিবর্তে বাস্তব জীবনে ইংরেজি ব্যবহারে সক্ষম করে তোলাই শিক্ষাব্যবস্থার অন্যতম লক্ষ্য হওয়া প্রয়োজন।
এমদাদুল হক মিলন সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারের সোনাপুর এসইএসডিপি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক।
মন্তব্য করুন