চেক ডিজঅনার মামলায় এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত লোকসংগীতশিল্পী, সুরকার ও সংগীত পরিচালক মুজিব পরদেশীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ মঙ্গলবার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ এ আদেশ দেন।
মুজিব পরদেশী মুন্সিগঞ্জের টংগিবাড়ী উপজেলার বেতকা এলাকার বাসিন্দা। তাঁর আসল নাম মুজিবুর রহমান মোল্লা। আশির দশকে বাংলা লোকগানের জগতে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ১০ লাখ টাকার একটি চেক ডিজঅনারের অভিযোগে ২০২২ সালে ইদ্রিস আলী বিশ্বাস নামে এক ব্যক্তি মাগুরার আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার বিচার শেষে ২০২৩ সালের ১৫ মার্চ মাগুরার দ্বিতীয় যুগ্ম দায়রা জজ মুহাম্মদ আনোয়ার ছাদাত মুজিব পরদেশীকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং চেকের সমপরিমাণ ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন।
রায়ের পর দীর্ঘদিন পলাতক থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। সেই পরোয়ানার ভিত্তিতে সোমবার রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই হেলাল উদ্দিন গণমাধ্যমকে জানান, গ্রেপ্তারের পর পুলিশ তাঁকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে। শুনানি শেষে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
শুনানিতে মুজিব পরদেশীর পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। অন্যদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবী সফিকুল ইসলাম জামিনের বিরোধিতা করে আদালতে বলেন, মামলার বিষয়ে অবগত থাকা সত্ত্বেও আসামি দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। তাঁকে জামিন দেওয়া হলে বাদীপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এরপর আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
বাংলা লোকসংগীতে মুজিব পরদেশীর অবদান উল্লেখযোগ্য। তাঁর জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে ‘আমি বন্দী কারাগারে’, ‘কলমে নাই কালি’, ‘তোমায় আমি হলেম অচেনা’, ‘আমার সাদা দিলে কাদা লাগাই গেলি রে বন্ধুয়া’, ‘আমি যার লাগি হইলাম অনুরাগী গো প্রাণসজনী’, ‘আমার জনম গেলো কাঁদিতে’, ‘আমারে নি পড়ে তোমার মনে’ ও ‘আমার সোনা বন্ধু রে’।
মন্তব্য করুন