কুমিল্লা স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের এক নারী উচ্চমান সহকারীর বিরুদ্ধে সরকারি বদলির আদেশ ঠেকাতে এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ব্ল্যাকমেইল করতে ‘যৌন হয়রানির’ মিথ্যা নাটক সাজানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গত ২১ মে প্রশাসনিক কারণে পটুয়াখালীতে বদলি হওয়ার পর, সেই আদেশ বাতিল করাতে ব্যর্থ হয়ে ওই নারী কর্মী এই অপকৌশলের আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
গত ২১ মে বৃহস্পতিবার বদলির চিঠি দেওয়ার সময় থেকেই তিনি দরজা আটকে রাখা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মতো ঘটনা ঘটান। পরবর্তীতে রবিবার (২৪ মে) সকালে কার্যালয়ের ভেতরেই নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়েরকে অবরুদ্ধ করে হেনস্তা করার পর পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উচ্চমান সহকারী তাজমিনা আক্তারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই অফিসে সময়মতো না আসা, সহকর্মীদের সাথে উগ্র আচরণ এবং নিজের খেয়ালখুশিমতো কাজ করার অভিযোগ ছিল। চাকুরির শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে তিনি অফিসে একটি নিজস্ব বলয় তৈরি করেছিলেন এবং লটারি ও টেন্ডার কার্যক্রমে অবৈধ হস্তক্ষেপের চেষ্টা করতেন।
তার এই লাগামহীন অনিয়ম ও অপকর্মের প্রেক্ষিতেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাকে কুমিল্লা থেকে পটুয়াখালীতে বদলি করার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু বদলির আদেশ জারি হওয়ার পর থেকেই তাজমিনা আক্তার তা প্রত্যাহারের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন।
নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের জানান, বদলির আদেশ আসার পর থেকেই তাজমিনা আক্তার চাকরিবিধি লঙ্ঘন করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। ২১ মে বৃহস্পতিবার থেকেই তিনি কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে জোরপূর্বক নির্বাহী প্রকৌশলীর কক্ষে ঢুকে পড়েন এবং দরজা আটকে দেন।
নির্বাহী প্রকৌশলী আরও বলেন: “তাজমিনা নিজেই নানা অপকর্মে জড়িত এবং অফিসে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতেন। বদলির আদেশ ঠেকাতে তিনি আমার কক্ষে আমাকে অবরুদ্ধ করে বানোয়াট মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেন। আমি বাধ্য হয়ে নিজের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ ডেকেছি।”
তাজমিনা আক্তার যে সাত-আটজন কর্মকর্তার সামনে শ্লীলতাহানির অভিযোগ তুলেছেন, সেই প্রত্যক্ষদর্শী কর্মকর্তারা এই দাবিকে সম্পূর্ণ কাল্পনিক বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তারা জানান, ২১ তারিখ বদলির চিঠি দেওয়ার সময় তাজমিনাই উল্টো চিৎকার-চেঁচামেচি করে কর্মকর্তাদের হুমকি দেন, দরজা আটকে রাখেন এবং ঘটনাকে ভিন্ন খাতে মোড় দিতে শ্লীলতাহানির নাটক সাজান।
খবর পেয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।
কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার জানান, প্রাথমিকভাবে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে যে তাজমিনা আক্তারের নিয়মিত ও বৈধ বদলির আদেশ হয়েছে। কিন্তু তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগদান না করে সরকারি আদেশ অমান্য করছেন এবং অফিসে বসে কান্নাকাটি ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন।
প্রশাসনিক কর্মকর্তারা বলছেন, নিজের অপরাধ ও অপকর্ম ঢাকতে এবং নিয়মিত বদলি আটকাতে একজন নারী কর্মীর পক্ষ থেকে এমন জঘন্য মিথ্যা অভিযোগ তোলার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সরকারি কর্মকর্তাদের এভাবে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থার দাবি উঠেছে।
মন্তব্য করুন