সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ে রোববার (২ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত গিয়েও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দেখা মেলেনি। এ সময় বিভিন্ন কাজের জন্য আসা সেবাপ্রত্যাশীদের অপেক্ষা করতে দেখা যায়।
সরেজমিনে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. জাকির হোসেন অফিসে উপস্থিত নেই।
এ বিষয়ে অফিসের কার্যসহকারী কিবরিয়া বলেন, “পিআইও স্যার এখনো অফিসে আসেননি। উনি কেন এখনো আসেননি, এ বিষয়ে আমার জানা নেই। এ বিষয় নিয়ে আমার সঙ্গে তার কোনো কথাও হয়নি। স্যার সাইট পরিদর্শনে গেলে সাধারণত আমাকে জানিয়ে যান। তাই আমার ধারণা, তিনি হয়তো ব্যক্তিগত কোনো কাজে বাইরে গেছেন।”
দুপুরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে প্রথমে মো. জাকির হোসেন বলেন, “আমি বাইরে আছি, পরে কথা বলব।” পরে তিনি জানান, “এমপি স্যারের কাছে রাস্তা ও ব্রিজের বিশেষ প্রকল্প পাঠাতে হবে। এ জন্য জরুরি সাইট পরিদর্শনে কান্দাপাড়া ও নোয়াগাঁও এলাকা থেকে আসতেছি।”
পিআইওর এ বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করতে কান্দাপাড়া ও নোয়াগাঁও এলাকার স্থানীয় ইউপি সদস্য, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য, যুবদল নেতা এবং কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা কেউই নিশ্চিত করে বলতে পারেননি যে, ওই সময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে এলাকায় সাইট পরিদর্শন করতে দেখেছেন।
এরপর দুপুর ১টা ৫০ মিনিটের দিকে মো. জাকির হোসেন কার্যালয়ে আসেন। এ সময় উপস্থিত প্রতিবেদকের কাছে দেওয়া ভিডিও বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমি সকাল ৯টার দিকে বাসা থেকে বের হয়ে সরাসরি অফিসে না এসে কান্দাপাড়া ও নোয়াগাঁও এলাকায় রাস্তা ও ব্রিজের বিশেষ প্রকল্পের সাইট পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। এরপর অফিসে এসেছি।”
তবে সংশ্লিষ্ট এলাকায় যোগাযোগ করা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দাদের কেউই তার ওই সময়ের উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেননি।
এদিকে অফিস চলাকালীন সময়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অনুপস্থিতি নিয়ে সেবাপ্রত্যাশীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা যায়। তাদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় কাজের জন্য অফিসে এসেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে না পাওয়ায় সময় নষ্ট হচ্ছে এবং সেবা গ্রহণে বিঘ্ন ঘটছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনি রায়ের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন