কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সরকারি কর্মকর্তাদের চেয়ে এক বেসরকারি কম্পিউটার অপারেটরের প্রভাবই যেন বেশি—এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে। দীর্ঘদিন ধরে অফিসটিতে কর্মরত মোঃ তারেক নামের এক কম্পিউটার অপারেটরের বিরুদ্ধে রিভিউ মামলা, নামজারি ও খাজনা আদায়ের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, হ্নীলা ইউনিয়ন ভূমি অফিস বর্তমানে অনেকটাই ওই কম্পিউটার অপারেটরের নিয়ন্ত্রণে চলছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি কোনো নিয়োগ ছাড়াই দীর্ঘ অর্ধযুগ ধরে অফিসটিতে কাজ করে আসা তারেক প্রভাব বিস্তার করে বিভিন্ন সেবাপ্রার্থীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করছেন। বিশেষ করে বর্তমান তহশীলদার যোগদানের পর থেকে তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
জানা যায়, গত ২০ মে বুধবার ভুক্তভোগী জসিম উদ্দিন চৌধুরী টেকনাফ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে সরাসরি অভিযোগ করেন যে, হ্নীলা ভূমি অফিসের কম্পিউটার অপারেটর মোঃ তারেক রিভিউ মামলার নামে তার কাছ থেকে ৮২ হাজার টাকা নিয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘ চার মাস অতিবাহিত হলেও কোনো কাজ সম্পন্ন করেননি।
ভুক্তভোগী জসিম উদ্দিন চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন,
“রিভিউ মামলার কাজ করে দেওয়ার কথা বলে তারেক আমার কাছ থেকে ৮২ হাজার টাকা নেয়। এরপর দীর্ঘদিন ধরে আজ দিবে, কাল দিবে বলে ঘুরাতে থাকে। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে আমি এসিল্যান্ড স্যারের কাছে অভিযোগ করি। পরে গোলঘরে বসে বিষয়টি শুনানি হয়। সেখানে তারেককে ভূমি অফিসে না যেতে বলা হয়েছে এবং এসিল্যান্ড স্যার নিজেই আমার খতিয়ান করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।”
অভিযোগের প্রেক্ষিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ রাকিব হাসান চৌধুরী ভূমি অফিসের গোলঘরে বসে অভিযোগকারী ও অভিযুক্তের বক্তব্য শোনেন। পরে বিষয়টির একটি সুরাহা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী জসিম চৌধুরী।
ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, মোঃ তারেক ২০১৯ সাল থেকে বেসরকারিভাবে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে হ্নীলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কাজ শুরু করেন। শুরুতে তার কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে তার বিরুদ্ধে একের পর এক অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠতে থাকে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, তহশীলদারের সঙ্গে বিশেষ সখ্যতা গড়ে তুলে তিনি অফিসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছেন।
শুধু জসিম উদ্দিন চৌধুরী নন, কাঞ্জরপাড়া এলাকার আব্দুল জলিলের কাছ থেকেও রিভিউ মামলার নামে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তারেকের বিরুদ্ধে। এছাড়াও আরও অনেক ব্যক্তি তার প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
অভিযুক্ত মোঃ তারেক অভিযোগের বিষয়ে বলেন,
“মামলার নামে টাকা নিয়েছি ঠিক, তবে জসিম চৌধুরীর বিষয়টি সমাধান হয়ে গেছে।”
এদিকে ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (তহশীলদার) আক্তারুল ইসলাম সেলিম বলেন,
“তারেক নামের কেউ আমাদের কম্পিউটার অপারেটর নয়।”
তবে অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,
“ওই কম্পিউটার অপারেটরকে আমি রাখিনি।”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ রাকিব হাসানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। পরবর্তীতে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বর্তমান তহশীলদার যোগদানের পর থেকে নামজারি মামলাসহ বিভিন্ন ভূমি সেবা কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষকে সেবা পেতে বাড়তি টাকা দিতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, কম্পিউটার অপারেটর তারেকের মাধ্যমেই বড় অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন ফাইল ক্লিয়ার করা হয়।
ভূমি সেবা বঞ্চিত জনগণ অভিযুক্ত তহশীলদার ও কম্পিউটার অপারেটরের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মন্তব্য করুন