সাম্প্রতিক সময়ে রাম মূর্তি নির্মাণকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া আলোচনা, সমালোচনা, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচির প্রেক্ষাপটে সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতির স্বার্থে নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন হরিদাস বাবু। একই সঙ্গে তিনি সকলকে শান্ত থাকার এবং কোনো ধরনের উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
হরিদাস বাবু বলেন, ধর্ম কখনোই সংঘাত, বিদ্বেষ বা বিশৃঙ্খলার শিক্ষা দেয় না। ধর্ম মানুষের মাঝে মানবতা, সহনশীলতা ও শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেয়। তাই তার কোনো উদ্যোগকে কেন্দ্র করে সমাজে বিভেদ সৃষ্টি হোক—এটা তিনি চান না। সকলের মতামত ও অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই তিনি মূর্তি নির্মাণকাজ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করা হয়েছে এবং মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচির মাধ্যমে একটি ধর্মীয় উদ্যোগকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের শান্তি ও সম্প্রীতির স্বার্থে তিনি সংযম ও দায়িত্বশীলতার পথ বেছে নিয়েছেন।
বিদেশি অর্থায়নের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রকল্পটি কোনো বিদেশি অনুদানে পরিচালিত নয়, বরং দেশীয় সনাতনী সম্প্রদায়ের মানুষের সহযোগিতায় গড়ে উঠছে। তিনি জানান, মাত্র ৩৫ হাজার টাকা দিয়ে কাজ শুরু করা হয়েছিল এবং পরে স্থানীয় সহযোগিতায় তা এগিয়েছে।
নিজের বিরুদ্ধে আনা অতীত অভিযোগ প্রসঙ্গে হরিদাস বাবু বলেন, ২০২২ সালের প্রতারণা মামলা ছিল মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তার বিরুদ্ধে আনা কোনো অভিযোগেই আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করেনি।
তিনি অভিযোগ করেন, একটি মহল তাকে নিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত এবং সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা চলছে। এ ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
হরিদাস বাবু আরও বলেন, তিনি সংঘাতের রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না। তার লক্ষ্য সকল ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থান নিশ্চিত করা।
তিনি দেশের বাইরে থেকে উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান না করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তা এ দেশের মানুষের হাতেই নির্ভরশীল।
পরিশেষে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সম্প্রীতির দেশ—এ ঐতিহ্য রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। বিভেদ নয়, সংলাপ; সংঘাত নয়, সম্প্রীতি—এই নীতিতেই সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
মন্তব্য করুন