সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন শুরু করেছেন এক তরুণী। অভিযুক্ত তরুণ তাবির হোসেন (২৫) উপজেলার উত্তর বাদাঘাট ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতা শফিকুল ইসলামের ছেলে। অভিযোগ উঠেছে, তরুণী বিয়ের দাবি নিয়ে বাড়িতে অবস্থান নেওয়ার পর থেকেই তাবির আত্মগোপনে রয়েছেন।
ভুক্তভোগী তরুণীর বাড়ি একই ইউনিয়নের ভোলাখালী গ্রামে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের তিনি জানান, মুঠোফোনে পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রায় এক বছর ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তার দাবি, গত সোমবার সকালে বিয়ের কথা বলে তাবির তাকে বাড়ি থেকে বের করে যাদুকাটা নদীর মিয়ারচর, পাঠানপাড়া খেয়াঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যান।
তরুণীর অভিযোগ, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাবির তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। পরে সন্ধ্যায় কৌশলে তার ব্যবহৃত মুঠোফোন ও সঙ্গে থাকা টাকা-পয়সা নিয়ে বাদাঘাট বাজারে তাকে রেখে পালিয়ে যান। এরপর নিরুপায় হয়ে সোমবার সন্ধ্যা থেকেই তিনি তাবিরের বাড়িতে গিয়ে বিয়ের দাবিতে অনশন শুরু করেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে ওই তরুণী বলেন, “বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আমার সম্মান নষ্ট করে এখন পালিয়ে গেছে। তাবির আমাকে বিয়ে না করলে আত্মহত্যা ছাড়া আমার আর কোনো পথ নেই।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, সোমবার সন্ধ্যা থেকে তরুণী অভিযুক্তের বাড়িতে অবস্থান করছেন। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্তও তিনি অনশন চালিয়ে যান। খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। এদিকে সংবাদ সংগ্রহে গেলে অভিযুক্তের বড় বোন সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন বলেও অভিযোগ ওঠে।
অভিযুক্ত তাবিরের বাবা শফিকুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, “আমি অসুস্থ হয়ে চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহে আছি। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।”
এ বিষয়ে তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদ বলেন, বিষয়টি পুলিশের নজরে রয়েছে। বাদাঘাট পুলিশ ফাঁড়িকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পুলিশ বলছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন