
তাহিরপুরে জমি সংক্রান্তের জের ধরে আব্দুল মান্নান নামে এক কয়লা ব্যবসায়ীকে দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত এবং তাঁর সঙ্গে থাকা ১ লাখ ৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার (৭সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আনন্দবাজার সংলগ্ন একটি কাঁচা রাস্তায় এ ঘটনা ঘটেছে। আহত আব্দুল মান্নান উপজেলার দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের লেদারবন্দ গ্রামের কাহের মিয়ার ছেলে। গুরুতর আহত মান্নানকে প্রথমে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল হয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তী করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আহতের ভাই আব্দুল মোতালিব বাদী হয়ে তাহিরপুর থানায় ৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে একটি মামলা করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আব্দুল মান্নানের সঙ্গে একই গ্রামের মুতলিব মিয়া গংদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে গত বুধবার সন্ধ্যায় তিনি স্থানীয় আনন্দবাজারে যাওয়ার পথে লেদারবন্দ গ্রামের দক্ষিণ পাশের কাঁচা রাস্তায় পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা মুতলিব মিয়া(৪৫), জলিল মিয়া (৩৫), লতিফ মিয়া (৪৮), বাছির মিয়া (৫৩), সুমন মিয়া (২৫), শরীফ মিয়া (২২), আয়নাল মিয়া সহ আরো ৪ থেকে ৫জন তাঁর পথরোধ করে রাখে। একপর্যায়ে তাঁকে দা দিয়ে কুপিয়ে মাথা, কানসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা ১ লাখ ৫ হাজার টাকা নিয়ে যায় অভিযুক্তরা। পরে তাঁর চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এসে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করে। রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার পথেও তাকে আক্রমন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীর ভাই আব্দুল মোতালিব অভিযোগ করে বলেন, জায়গাজমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে তাঁর ভাই আব্দুল মান্নানকে আনন্দ বাজারে যাওয়ার পথে দা দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক আহত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ঘটনার দুই দিন পর (৯ সেপ্টেম্বর) প্রতিপক্ষের লোকজন ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে নিজেদের বাড়িতে জামেলা সৃষ্টি করে পরিকল্পিত ভাবে একজনকে অসুস্থ সাজিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। যাতে আমাদের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা দিয়ে হয়রানি করতে পারে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।
স্থানীয় কামরুল ইসলাম বলেন, গত ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার দিকে বাজারে যাওয়ার পথে মান্নানকে কুপিয়ে আহত করে প্রতিপক্ষরা। এ ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিক করতে ঘটনার দুইদিন পর (৯ সেপ্টেম্বর) ভোরে নিজের বাড়িতে আব্দুল জলিল নামে একজনকে অসুস্থ সাজিয়ে হাসপাতালে ভর্তী করেছে প্রতিপক্ষ মুতলিব গংরা।
অভিযুক্ত মুতলিব মিয়ার মোবাইল বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ফারুক আহমেদ বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে এবং পুলিশ আসামিদের গ্রেফতার করতে চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, কেউ মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর চেষ্টা করলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন