রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে হাড়ভাঙা খাটুনি, কাজের পর ক্লান্তি—প্রবাস জীবনের পরিচিত চিত্র এটি। অধিকাংশ প্রবাসী যেখানে দিনরাত পরিশ্রম করেন কেবল নিজেদের পরিবারের ভবিষ্যৎ সুসংগঠিত করতে, সেখানে ব্যতিক্রম এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন একজন দুবাই প্রবাসী। প্রবাসে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্জিত আয়ের একটি বড় অংশ তিনি নিঃস্বার্থভাবে বিলিয়ে দিচ্ছেন দেশের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সেবায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা প্রচারের আলো থেকে দূরে থেকে নীরবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই যেন এখন তার একমাত্র নেশা।
বলছিলাম সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের সংগ্রামপুর গ্রামের কৃতি সন্তান দুবাই প্রবাসী বাবুল আহমেদ এর কথা। যিনি দীর্ঘ বছর ধরে প্রবাসে বসবাস করছেন। প্রবাসে হার ভাঙ্গা উপার্জিত অর্থ ব্যয় করছেন নিজ জন্মস্থান এলাকাসহ বিভিন্ন গ্রামের দুস্থ অসহায় মানুষদের জন্য। জাতিগোষ্ঠী কিংবা দলমত নয় দুস্থ অসহায়, গরীব মানুষের সহযোগীতা চেয়েছে বা কষ্টে আছে এমন দৃশ্য নজরে পড়লেই নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী দান করেন রেমিট্যান্স যোদ্ধা বাবুল আহমেদ। বর্তমানে তিনি বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা প্রবাসী সমাজকল্যাণ ও উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি পদে রয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেশ কয়েক বছর আগে উন্নত ভবিষ্যতের আশায় তিনি বিদেশে পাড়ি জমান। প্রবাসের মাটিতে প্রাথমিক সংগ্রাম শেষে নিজের অবস্থান তৈরি করার পর থেকেই তিনি জড়িয়ে পড়েন নানা সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে। গ্রামে বা নিজ এলাকায় কারো অর্থাভাবে চিকিৎসা আটকানো, মেয়ের বিয়ে দিতে না পারা কিংবা অনাহারে দিন কাটানোর খবর পেলেই তিনি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, শীতকালে শীতার্তদের মাঝে গরম কাপড় ও কম্বল বিতরণ, রমজান ও ঈদে খাদ্য সামগ্রী ও নতুন পোশাক পৌঁছানো, এবং মেধাবী কিন্তু দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়া এখন তার নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কোনো ঢাকঢোল না পিটিয়ে বিশ্বাসযোগ্য মাধ্যম ও প্রতিনিধিদের সাহায্যে তিনি বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেন এই সহায়তা।
তাঁর এই মানবিক উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে দূর পরবাস থেকে বাবুল আহমেদ জানান, “বিদেশের মাটিতে ঘাম ঝরিয়ে যে অর্থ উপার্জন করি, তার প্রকৃত সার্থকতা খুঁজে পাই দেশের কোনো অসহায় মানুষের মুখে একটু হাসি দেখলে। সমাজ ও দেশের প্রতি আমাদের সবারই কিছু দায়বদ্ধতা আছে। প্রচারের জন্য নয়, হৃদয়ের তাড়না থেকেই আমি এই কাজ করি। যতদিন বেঁচে থাকবো, এভাবেই মানুষের সেবা করে যেতে চাই।”
বাবুল আহমেদ এর এমন দৃষ্টান্তমূলক কর্মকাণ্ডে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন অন্যান্য প্রবাসীরাও। স্থানীয়রা বলছেন, প্রবাসীদের অর্জিত রেমিট্যান্স যেভাবে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখছে, তেমনি এই প্রবাসীর মতো মানবিক হৃদয় নিয়ে এগিয়ে আসা মানুষেরা সমাজ থেকে দূর করছেন দারিদ্র্য ও অসহায়ত্ব।
নিজের অর্জিত রক্তপানি করা উপার্জনকে এভাবে অন্যের মুখে হাসি ফোটানোর কাজে উৎসর্গ করে বাবুল আহমেদ আজ বহু মানুষের কাছে আশীর্বাদস্বরূপ। প্রবাসের কঠিন ব্যস্ততার মাঝেও এই নিঃস্বার্থ মানবিকতা অনন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। ##
মন্তব্য করুন