
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আগুন নিয়ন্ত্রণ ও রোগী উদ্ধারে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা সাতজন আনসার সদস্য। আহতদের মধ্যে দুজনকে নিবিড় পর্যবেক্ষণের জন্য সিসিইউ ও আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের অষ্টম তলায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, একটি বন্ধ লিফটের ওয়েল্ডিংয়ের কাজ চলাকালে আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
আগুনের সূত্রপাতের পর অল্প সময়ের মধ্যেই ধোঁয়া ও আগুন ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালের রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে হাসপাতালে কর্মরত আনসার সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার প্রাথমিক চেষ্টা এবং রোগী উদ্ধারে কাজ শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আনসার সদস্যদের সঙ্গে উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমে যোগ দেন।
প্রায় ৩০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানা গেছে। এ সময় উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমে অংশ নিতে গিয়ে পিসি মো. খাইরুল আলম, এপিসি মো. রফিকুল ইসলাম, আনসার সদস্য আরিফুল ইসলাম রনি, মো. হাসিবুল ইসলাম, মো. আকাশ আহমেদ, মো. রাসেল আহমেদ ও মো. রুহুল আমিন আহত হন।
আহতদের মধ্যে মো. আকাশ আহমেদের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শে এপিসি মো. রফিকুল ইসলামকে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে। অন্য আহত আনসার সদস্যদেরও হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে আনসার ও ভিডিপি ময়মনসিংহ জেলা কমান্ড্যান্টসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা হাসপাতালে ছুটে যান। তারা আহত আনসার সদস্যদের খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার বিষয়ে ব্যবস্থা নেন। কর্মকর্তারা পরে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাও পরিদর্শন করেন।
আনসার-ভিডিপি ময়মনসিংহ জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আহত সদস্যদের চিকিৎসার বিষয়ে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখা হচ্ছে এবং তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকালে অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে আনসার সদস্যদের উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। এ ঘটনায় তাদের কয়েকজন আহত হলেও তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং রোগী উদ্ধারে কাজ করেছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাসপাতালের কতটুকু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং আগুন লাগার প্রকৃত কারণ কী—তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।
মন্তব্য করুন