
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের বিরুদ্ধে ‘নৈরাজ্য ও ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা করেছে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল ১১টার দিকে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে তাহিরপুর বাজার থেকে মিছিলটি বের করা হয়। মিছিলটি বাজারসহ প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পরে সংক্ষিপ্ত পথসভায় মিলিত হয়।
পথসভায় উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. বাদল মিয়া, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুনাব আলী, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান উজ্জ্বল, উপজেলা বিএনপির সদস্য চান মিয়া মাস্টার, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক এনামুল হক এনাম, ৪নং উত্তর বড়দল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম, বালিজুরি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাখাওয়াত হোসেনসহ উপজেলা ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পথসভায় উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জুনাব আলী বলেন, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের একটি অংশ দেশে গণতান্ত্রিক সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে তারা মনে করছেন।
তিনি বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদলসহ অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। কোথাও সন্ত্রাস বা নৈরাজ্যের চেষ্টা হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করে আইনানুগভাবে তা মোকাবিলার কথাও বলেন তিনি।
জুনাব আলী আরও বলেন, দলীয় নেতাকর্মীরা যে অবস্থানেই থাকুন, প্রয়োজনে তাদের পাশে থাকার জন্য সংগঠনের নেতৃবৃন্দ প্রস্তুত রয়েছেন। তিনি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
যুগ্ন আহ্বায়ক মেহেদী হাসান উজ্জ্বল বলেন, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের একটি অংশ দেশের বিভিন্ন স্থানে মিছিল-মিটিং ও অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে বলে তারা অভিযোগ পাচ্ছেন। তিনি বিএনপি নেতাকর্মীদের রাজনৈতিকভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।
বক্তব্যে সীমান্তবর্তী এলাকার নেতাকর্মীদেরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়। বক্তা দাবি করেন, দলীয় সূত্রে সীমান্ত দিয়ে আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মী দেশে প্রবেশ করতে পারে—এমন তথ্য তারা শুনেছেন। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ বা সরকারি সূত্রের কথা তিনি উল্লেখ করেননি।
এছাড়াও বক্তা বলেন, কেউ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক হলে তাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি বিএনপির পরবর্তী আন্দোলন-সংগ্রামে নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।
পথসভার শেষ পর্যায়ে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফজল ভাই বক্তব্য দেন বলে বক্তৃতায় উল্লেখ করা হয়। তিনি আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বলেন, আওয়ামী লীগ তাদের এমন পরিস্থিতিতে ফেললে বিএনপিও রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি সংঘাতময় হলে তা আরও খারাপ রূপ নিতে পারে।
পথসভায় নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে আয়োজকদের পক্ষ থেকে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানান, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবেই এ মিছিল ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাদের বক্তব্য, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ ও সতর্ক রাখতেই এ ধরনের কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন