
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় মাদকদ্রব্যের বিস্তার, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, অবৈধভাবে বালু-পাথর উত্তোলন ও পরিবহন, বাজারের শৃঙ্খলা, যানজট, কিশোরদের বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়া এবং হাওরাঞ্চলের নৌপথের নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পায়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ্ রিপামনি দেবীর সভাপতিত্বে সভায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন ও পুলিশের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন তাহিরপুর উপজেলা বিএনপি আহব্বায়ক বাদল মিয়া, উপজেলা বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম আহব্বায়ক ও সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জুনাব আলী, যুগ্ম আহব্বায়ক ও সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি মেহেদী হাসান উজ্জ্বল, যুগ্ম আহব্বায়ক রাখাব উদ্দিন, শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলী আহমেদ মুরাদ, মুক্তিযুদ্ধা হারুন ওর রশীদ সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ।
সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও মিজ্ রিপামনি দেবী বলেন, “তাহিরপুরের মানুষ শান্তিপ্রিয়। এই এলাকার শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবে। মাদক, চোরাচালান, অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন কিংবা যেকোনো ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব শুধু প্রশাসন বা পুলিশের একার নয়। জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। কোথাও অপরাধ বা অনিয়মের তথ্য থাকলে তা প্রশাসনকে জানালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সভায় যাদুকাটা নদী ও সীমান্তবর্তী এলাকা, হাওরের নৌপথ এবং বিভিন্ন বাজারের নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা হয়। বিশেষ করে রাতের বেলায় অবৈধভাবে বালু-পাথর পরিবহন, মাদক পাচার ও চোরাচালান প্রতিরোধে নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অপরাধপ্রবণতা চিহ্নিত করে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, হাওর ও সীমান্তঘেরা তাহিরপুরের ভৌগোলিক বাস্তবতায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন-পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে মাদক, চোরাচালান ও বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
মন্তব্য করুন