
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার পাঠানপাড়া-মিয়ারচর খেয়াঘাটে মালামাল পারাপারে অতিরিক্ত টোল আদায় ও সাধারণ জনগণকে হয়রানির প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১১টায় বাদাঘাট বাজার বণিক সমিতি ও ভুক্তভোগী জনগণের উদ্যোগে বাদাঘাট বাজারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাজারের ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও সাধারণ জনগণ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, পাঠানপাড়া ও মিয়ারচর খেয়াঘাটের দুই পারে পৃথকভাবে টোল আদায় করা হচ্ছে। এতে ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণকে একই পারাপারে একাধিকবার টাকা দিতে হচ্ছে। অতিরিক্ত টোল আদায়ের কারণে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি সাধারণ যাত্রী ও মালামাল পরিবহনকারীরাও ভোগান্তিতে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।
বাদাঘাট বাজার বণিক সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম সিকদার বলেন, “পাঠানপাড়া-মিয়ারচর খেয়াঘাটে পারাপারের সময় অতিরিক্ত টোল দিতে হয়, যা দেশের মধ্যে আর কোথাও নেই। আমরা বৈধ ইজারাদারকে নির্ধারিত টোল দিতে বাধ্য। কিন্তু বর্তমানে দুই পারে দুই পক্ষ টাকা আদায় করছে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সরকার যাকে নির্ধারিতভাবে ইজারা দেবে, আমরা তাকেই টাকা দেব। অন্যথায় দুই পক্ষকেই এখান থেকে উচ্ছেদ করা হবে। প্রয়োজনে আমরা ঘাট উন্মুক্ত ঘোষণা করব।”
বাদাঘাট বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ বলেন, “আমরা কি এই দেশের সন্তান না? আমরা কি এ দেশের জনগণ না? আমাদের সঙ্গে আপনারা এ ধরনের ব্যবহার কেন করবেন? আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে যদি আপনারা কোনো সমাধানে না আসেন, তাহলে আমরা বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণকে নিয়ে ঘাটের দখল নেব। আমরা সরকারি নির্ধারিত টোল দিতে বাধ্য। কিন্তু দুই পারে দুজনকে আমরা টোল দিতে পারবো না।”
বাজারের ব্যবসায়ী ইসলাম উদ্দিন বলেন, “আপনারা যারা অবৈধভাবে পাঠানপাড়া ও মিয়ারচর ঘাটে টাকা তুলছেন, জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসন কেন এখনো বিষয়টি শেষ করতে পারছে না? আমরা কি তাদের ট্যাক্স দিচ্ছি না? আজ থেকে তিন-চার সপ্তাহ হয়ে গেছে, এখনো তারা কোনো সমাধান করতে পারছেন না। আমরা দ্রুত এর সমাধান চাই।”
মানববন্ধনে বক্তারা সরকারি নির্ধারিত টোলের বাইরে কোনো অর্থ আদায় বন্ধ এবং প্রকৃত ইজারাদার নির্ধারণ করে নির্ধারিত হারে টোল আদায়ের ব্যবস্থা করার দাবি জানান।
মানববন্ধনে বাদাঘাট বাজার বণিক সমিতির কোষাধ্যক্ষ মাওলানা মোখলেসুর রহমান, বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম, আমির শাহ, উত্তর বড়দল ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি হেলু মিয়া, ব্যবসায়ী জুবায়ের আহমদ, সাজ্জাদ হোসেনসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধন থেকে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি দ্রুত সমস্যাটির সমাধান করার দাবি জানানো হয়। অন্যথায় ৭২ ঘণ্টা পর ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ঘাটে কঠোর কর্মসূচি নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।
মন্তব্য করুন