
চন্ডিবের মধ্যপাড়ায় ১৪ বছরের মেয়েকে হয়রানির অভিযোগ; নিরাপত্তা নিশ্চিত ও ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানালেন মা সালমা বেগম
কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌর শহরের চন্ডিবের মধ্যপাড়ায় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ উঠেছে একটি লোহার কারখানার কয়েকজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে কিশোরীর মা-বাবাকে গালিগালাজ ও হুমকির শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে পরিবারটি। এ ঘটনায় নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তাঁরা।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় চন্ডিবের মধ্যপাড়ায় নিজেদের বাড়িতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কিশোরীর মা সালমা বেগম ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সালমা বেগম জানান, তাঁর ১৪ বছর বয়সী মেয়ে সুমাইয়া বেগম স্কুলে ও প্রাইভেটে যাতায়াতের সময় চন্ডিবের মধ্যপাড়ার চিড়ার মিলসংলগ্ন একটি লোহার কারখানার সামনে কারখানার কয়েকজন কর্মচারীর কাছ থেকে অশোভন মন্তব্য ও হয়রানির শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সালমা বেগমের অভিযোগ, গত ১৮ অক্টোবর সকালে মেয়েকে প্রাইভেটে নিয়ে যাওয়ার সময় তাঁকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়। পরে বিষয়টি কারখানার মালিক হিসেবে উল্লেখ করা নুরু মিয়াকে জানিয়ে প্রতিকার চাইলে তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। এরপর তাঁর স্বামী এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে গেলে নুরু মিয়া, রানা মিয়া ও তাঁদের সঙ্গে থাকা অন্যদের বিরুদ্ধে গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।
পরিবারটির দাবি, ঘটনার পর থেকে তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বিশেষ করে, কিশোরীর স্বাভাবিক চলাফেরা ও পড়াশোনা অব্যাহত রাখা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে তাঁদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তাঁরা।
এদিকে, গত ১৮ অক্টোবরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। ওই ঘটনায় নুরু মিয়া ও রানা মিয়া আহত হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ, ঘটনার ধারাবাহিকতা এবং এতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন বলেও দাবী করেন।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে কিশোরীকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, অভিযোগকারী পরিবারসহ সংশ্লিষ্ট সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও প্রাসঙ্গিক তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানানো হয়।
এ ছাড়া কোনো পক্ষ যেন ভয়ভীতি প্রদর্শন, হুমকি কিংবা প্রতিশোধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ভৈরব থানা পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা। একই সঙ্গে একটি কিশোরীর নিরাপদে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
লিখিত বক্তব্যে সালমা বেগম ও তাঁর পরিবার বলেন, কাউকে আগাম দোষী সাব্যস্ত করা তাঁদের উদ্দেশ্য নয়। তাঁরা চান, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশিত হোক। তদন্তে কারও বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পরিবারটি ভৈরব থানা পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং তাঁদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
মন্তব্য করুন