আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ, অপরাধ দমনে দৃঢ় অবস্থান এবং সাধারণ মানুষের প্রতি মানবিক আচরণের সমন্বয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রতন শেখ, পিপিএম একজন জনবান্ধব পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছেন। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময়ের পুলিশি কর্মজীবনে তিনি সততা, দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও জনসেবার মাধ্যমে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সফলতার সঙ্গে পালন করেছেন।
মো. রতন শেখ ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ পুলিশে সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) হিসেবে যোগদান করেন। বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি, সারদায় মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে তাঁর প্রথম কর্মস্থল ছিল মাগুরা সদর থানা। এরপর তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), কুষ্টিয়া, সাতক্ষীরা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম এবং মাদারীপুর জেলার শিবচর থানাসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। কর্মজীবনের এক পর্যায়ে তিনি জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে সুদানে দায়িত্ব পালন করে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বাংলাদেশের পুলিশের সুনাম বৃদ্ধি করেন।
২০১০ সালে তিনি পুলিশ পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) পদে পদোন্নতি লাভ করেন। পরবর্তীতে সিলেট অঞ্চলে ট্যুরিস্ট পুলিশের জাফলং জোনে দায়িত্ব পালন করেন। পরে কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক, চোরাচালান, অপরাধ ও আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নেতৃত্ব প্রদান করেন। তাঁর নেতৃত্বে অপরাধ দমনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হওয়ায় তিনি সিলেট জেলা পুলিশের প্রশংসা অর্জন করেন।
কোম্পানীগঞ্জ থানায় কর্মরত অবস্থায় ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসের কর্মমূল্যায়নের ভিত্তিতে তিনি সিলেট জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হন। মাদক উদ্ধার, ওয়ারেন্ট তামিল, মামলা নিষ্পত্তি এবং সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ৯ নভেম্বর ২০২৫ তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তিনি সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে যোগদান করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মাদক, চোরাচালান, সন্ত্রাস, জুয়া ও অন্যান্য অপরাধ দমনে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার, মামলা তদন্তের মানোন্নয়ন এবং ভুক্তভোগীদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেন। থানায় সেবাপ্রত্যাশীদের প্রতি মানবিক ও আন্তরিক আচরণ তাঁর কর্মধারাকে আরও প্রশংসিত করেছে।
তাঁর পেশাগত সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তিনি দ্বিতীয়বারের মতো সিলেট রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হন। এরপর ১৮ মে ২০২৬ সুনামগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি এবং ১০ জুন ২০২৬ সিলেট বিভাগের শ্রেষ্ঠ ওসি হিসেবে সম্মাননা লাভ করেন। একই বছরের জুলাই মাসেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং জনসেবায় বিশেষ অবদানের জন্য তিনি পুনরায় সুনামগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হন।
দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ পুলিশের মর্যাদাপূর্ণ পুলিশ পদক (পিপিএম), দুইবার আইজিপি ব্যাজ, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা পদক এবং শুদ্ধাচার পুরস্কার অর্জন করেছেন। এসব স্বীকৃতি তাঁর পেশাগত দক্ষতা, সততা ও নিষ্ঠারই প্রতিফলন।
সহকর্মীদের কাছে তিনি একজন শৃঙ্খলাবদ্ধ, বিচক্ষণ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে সাধারণ মানুষের কাছে তিনি সহজে যোগাযোগযোগ্য, সেবামুখী ও মানবিক একজন পুলিশ কর্মকর্তা। তাঁর বিশ্বাস, পুলিশের প্রকৃত সাফল্য কেবল অপরাধ দমনেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং জনগণের আস্থা অর্জন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায়ভিত্তিক সেবা নিশ্চিত করার মধ্যেই প্রকৃত সফলতা নিহিত।
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত বিভিন্ন অপরাধবিরোধী অভিযান, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং সেবার মানোন্নয়নের উদ্যোগ ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, দক্ষ নেতৃত্ব এবং জনবান্ধব পুলিশিংয়ের মাধ্যমে মো. রতন শেখ, পিপিএম আজ সুনামগঞ্জসহ সিলেট অঞ্চলের পুলিশ প্রশাসনে একটি সুপরিচিত ও আস্থার নাম। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং জনসেবায় তাঁর নিষ্ঠাবান ভূমিকা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে—এমন প্রত্যাশাই স্থানীয় জনগণের।
মন্তব্য করুন