
সুনামগঞ্জে পৃথক মাদকবিরোধী অভিযানে ৬ লিটার চোলাই মদ ও ৪০০ লিটার ওয়াশ উদ্ধার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। একই দিনে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ৪ পিস ইয়াবাসহ এক যুবককে গ্রেপ্তার করে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৯০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর ২০২৬) সকালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয় সুনামগঞ্জের ‘ক’ সার্কেলের পৃথক অভিযানে এসব ঘটনা ঘটে।
ডিএনসি সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে বিশ্বম্ভরপুর থানাধীন বাঘমারা গ্রামে অভিযান চালানো হয়। এ সময় পলাতক আসামি হরিমন রবিদাসের দখলীয় বসতঘর থেকে ৬ লিটার চোলাই মদ ও ৪০০ লিটার ওয়াশ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যের আনুমানিক মূল্য ১০ হাজার টাকা।
এ ঘটনায় হরিমন রবিদাস (৩২), পিতা মৃত লালমন রবিদাস, মাতা প্রাণমতি রবিদাস, বাঘমারা, দক্ষিণ বাদাঘাট ইউনিয়ন, বিশ্বম্ভরপুর, সুনামগঞ্জ—তাকে পলাতক আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ (সংশোধিত ২০২০)-এর ৩৬(১) সারণির ২৪(ক) ও ৩৭ ধারায় বিশ্বম্ভরপুর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার বাদী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মুহাম্মদ আমিনুল কবির।
অন্যদিকে, একই দিন সুনামগঞ্জ সদর থানাধীন বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিজ্ঞ সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাকিবুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে মো. মামুন (২৯) নামে এক যুবককে ৪ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়।
আটক মামুন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার তেঘরিয়া আমপাড়া এলাকার এনামুল হকের ছেলে। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা ৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দের পর ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করা হয়।
মাদক সেবনের অপরাধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে মামুনকে ৯০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১৫০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। পরে তাকে সুনামগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আবুল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মোবাইল কোর্ট অভিযানে প্রসিকিউশন প্রদান করেন পরিদর্শক মুহাম্মদ আমিনুল কবির।
ডিএনসি সূত্র জানিয়েছে, মাদকের বিস্তার রোধে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন