পিএসসি ও জেএসসিতে গোল্ডেন এ প্লাস, এসএসসিতেও জিপিএ-৫; ধারাবাহিক সাফল্যে পরিবার ও এলাকাবাসীর আনন্দ
কাইয়ুম বাদশাহ, মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামের কৃতী শিক্ষার্থী মোঃ শরিফ মিয়া ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। শিক্ষাজীবনের শুরু থেকে ধারাবাহিক সাফল্যের স্বাক্ষর রাখা শরিফের এ অর্জনে পরিবার-পরিজন, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। তার এমন কৃতিত্বে গর্বিত মধ্যনগরবাসী।
শরিফ মিয়া উপজেলার ১ নম্বর উত্তর বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের মোহনপুর গ্রামের বাসিন্দা। সে মোঃ শফিকুল ইসলাম ও নুরজাহান বেগম দম্পতির তৃতীয় সন্তান। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি আগ্রহী শরিফ শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ধাপে মেধা, নিষ্ঠা ও অধ্যবসায়ের পরিচয় দিয়েছে।
সে কার্তিকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিএসসি) পরীক্ষায় গোল্ডেন এ প্লাস অর্জন করে। পরবর্তী সময়ে মহিষখলা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় গোল্ডেন এ প্লাস এবং এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করে। এসএসসি পাসের পর উচ্চশিক্ষার জন্য সিলেটের বিএএফ শাহীন কলেজে ভর্তি হয় সে। ওই কলেজ থেকেই ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ অর্জন করে।
শুধু পরীক্ষার ফলাফলেই নয়, বিভিন্ন শিক্ষামূলক ও প্রতিযোগিতামূলক কার্যক্রমেও শরিফের রয়েছে সাফল্য। শিক্ষাজীবনে বিভিন্ন সময়ে মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে একাধিক পুরস্কার অর্জন করেছে সে। বিশেষ করে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও ইঞ্জিনিয়ারিংবিষয়ক প্রতিযোগিতায় কৃতিত্বের পরিচয় দেওয়ার পাশাপাশি বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতাতেও পুরস্কার অর্জন করেছে শরিফ।
শরিফের ধারাবাহিক এই সাফল্যে পরিবারে আনন্দের পরিবেশ বিরাজ করছে। ছেলের এমন অর্জনে গর্বিত বাবা-মা। একই সঙ্গে নিজ গ্রামের মানুষ, স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরাও তার সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করেছেন। প্রত্যন্ত অঞ্চলের একজন শিক্ষার্থীর এমন অর্জন স্থানীয় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে শরিফ মিয়া জানায়, এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন তার জীবনের অন্যতম আনন্দের মুহূর্ত। এই সাফল্যের পেছনে বাবা-মায়ের অনুপ্রেরণা, শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা এবং নিজের নিয়মিত পড়াশোনা ও পরিশ্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে একজন যোগ্য ও আদর্শ মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় সে। পাশাপাশি নিজের এলাকার মানুষের কল্যাণে কাজ করারও স্বপ্ন রয়েছে তার।
ছেলের সাফল্যে আনন্দ ও গর্ব প্রকাশ করে বাবা মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, সন্তানের এমন অর্জন একজন বাবা-মায়ের জন্য অত্যন্ত আনন্দের। ছেলের ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ ছিল। তার এই সাফল্যে পরিবারের সবাই অত্যন্ত খুশি। সামর্থ্য অনুযায়ী সবসময় ছেলের পড়াশোনার পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। ভবিষ্যতেও সে যেন উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে, এটাই তাঁদের প্রত্যাশা। ছেলের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য তিনি সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।
শিক্ষাজীবনের শুরু থেকে ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রেখে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনের মধ্য দিয়ে শরিফ মিয়া নিজের পরিবার, গ্রাম ও মধ্যনগর উপজেলার মুখ উজ্জ্বল করেছে। তার এই অর্জন প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। ভবিষ্যতেও সে সাফল্যের এই ধারা অব্যাহত রাখবে—এমন প্রত্যাশা পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর।
মন্তব্য করুন