পাহাড় নিধন বন্ধে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা
নুরুল ইসলাম সেলিম, কক্সবাজার:
কক্সবাজারের রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের উত্তর মিঠাছড়ি (মুরাপাড়া) এলাকায় সরকারি বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে পাহাড় কেটে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। দিন-রাত পাহাড় কেটে ট্রাক ও বিভিন্ন যানবাহনে করে মাটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জমির মালিক আকলিমা সুলতানা এ্যানি। এতে আশপাশের বসতবাড়ি ও জনবসতি ঝুঁকির মুখে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
অভিযোগকারী আকলিমা সুলতানা এ্যানি জানান, তাঁর বাবা মরহুম ইদ্রিস আলীর মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রে তিনি পৈতৃক সম্পত্তির মালিক হন। রামু উপজেলার উত্তর মিঠাছড়ি উত্তরপাড়া (মুরাপাড়া) এলাকায় তাঁর নামে বন্দোবস্তপ্রাপ্ত খতিয়ান নম্বর-১, দাগ নম্বর-৬৬৪/১-এর জমি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন।
তাঁর অভিযোগ, তাঁর অনুপস্থিতির সুযোগে স্থানীয় মোস্তফা কামাল, বশির ও শফি উল্লাহসহ কয়েকজন ব্যক্তি জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে সংঘবদ্ধভাবে পাহাড় কেটে মাটি অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। কাটা পাহাড়ের মাটি গাড়িতে করে নিয়ে পার্শ্ববর্তী পুকুর ভরাট ও রাস্তার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
আকলিমা সুলতানা এ্যানি আরও অভিযোগ করেন, পাহাড় কাটার কাজে বাধা দিলে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তাঁর বাবার মৃত্যুর পর থেকে অভিযুক্তদের দ্বারা বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিক হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অভিযোগে অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন মোস্তফা কামাল (৩৫), পিতা নুরুল হক; বশির, পিতা অজ্ঞাত এবং শফি উল্লাহ, পিতা আব্দুল্লাহ। তাঁদের সবার বাড়ি রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের উত্তর মিঠাছড়ি এলাকার মুরাপাড়া ও নুনাছড়ি এলাকায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, অব্যাহতভাবে পাহাড় কাটার ফলে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি পাহাড়ের মাটি ধসে আশপাশের বসতবাড়ি ও মানুষের প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ধসের আশঙ্কা আরও বেড়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন তাঁরা।
আকলিমা সুলতানা এ্যানির স্বামী সাখাওয়াত হোসেন জানান, বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে মুঠোফোনে রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। তবে পাহাড় কাটা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে আকলিমা সুলতানা এ্যানি পাহাড় কাটা বন্ধ, জমির নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্তসাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কক্সবাজার জেলা প্রশাসক, রামু উপজেলা প্রশাসন, বন বিভাগ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
পরিবেশ রক্ষা ও সম্ভাব্য পাহাড়ধসজনিত দুর্ঘটনা এড়াতে অভিযোগের বিষয়টি সরেজমিন তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
মন্তব্য করুন