
সাধন সাহা জয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর পৌরসভায় মাত্র এক লাখ টাকার বিনিময়ে নিজের দুই মাস বয়সী শিশুপুত্রকে অন্যের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুলাল মিয়া নামে এক ভ্যানচালকের বিরুদ্ধে। আর্থিক সংকট ও ঋণের চাপে পড়ে তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। তবে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এক সমাজসেবীর উদ্যোগে ঋণ পরিশোধ করা হয় এবং শিশুটিকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে নবীনগর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুলাল মিয়া নবীনগর পৌর এলাকায় ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। আর্থিক অনটন ও ঋণের বোঝা সামলাতে না পেরে তিনি তাঁর দুই মাস বয়সী শিশুপুত্রকে এক লাখ টাকার বিনিময়ে অন্যের কাছে হস্তান্তর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই এ ঘটনায় উদ্বেগ ও দুঃখ প্রকাশ করেন। তাঁদের মতে, আর্থিক সংকটের কারণে কোনো শিশুর নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ যেন অনিশ্চয়তার মুখে না পড়ে, সে জন্য পরিবারটির পাশে দাঁড়ানো জরুরি।
দুলাল মিয়ার দাবি, অভাব-অনটন ও ঋণের চাপ সামলাতে না পেরে তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে শিশুটিকে হস্তান্তরের প্রকৃত পরিস্থিতি এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
এদিকে, ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এক সমাজসেবী ব্যক্তি পরিবারটির সহায়তায় এগিয়ে আসেন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, তাঁর উদ্যোগে দুলাল মিয়ার ঋণ পরিশোধ করা হয়। পরে শিশুটিকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে শিশুটি তার বাবা-মায়ের কাছেই রয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁদের মতে, একটি পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে যেন কোনো শিশুর অধিকার, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া প্রয়োজন।
একই সঙ্গে পরিবারটির আর্থিক সংকট নিরসনে সামাজিক ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পাশাপাশি শিশুটির সার্বিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁরা।
প্রতিবেদকের মন্তব্য: ঘটনাটি নিয়ে প্রকাশিত তথ্যের স্বাধীন যাচাই, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য এবং শিশুটির বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিশ্চিত করা জরুরি। অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুসন্ধানে স্পষ্ট হতে পারে।
মন্তব্য করুন