ই-পেপার/প্রিন্ট ভিউ
ডেস্ক রিপোর্ট:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি-এর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় নেতাকর্মীদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “এই নির্বাচনে আমাদের প্রত্যাশা যাই থাকুক, আমাদের নিয়ে দেশের জনগণের প্রত্যাশা ছিল বিপুল। প্রত্যাশার প্রতিফলন হয়নি। কিন্তু আমরা হারিয়ে যাইনি। আমরা যেখানেই যাচ্ছি, লোকেরা বলছেন—আপনারা হারেননি, আপনাদের হারিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিলেটের একটি কমিউনিটি সেন্টারে সিলেট জেলা জামায়াত আয়োজিত শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্যদের শিক্ষা শিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সাধারণ মানুষ—রিকশাচালক, ঠেলাচালক, হকার, ব্যবসায়ী, ট্রাকচালক ও বাসযাত্রী—তাদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করছেন। “আগে তারা শুধু সালাম দিতেন, এখন বলেন—আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি। এর অর্থ নির্বাচনের মাধ্যমে আমাদের হক কেড়ে নেওয়া হয়েছে, যা জাতির সামনে পরিষ্কার,” বলেন তিনি।
সংসদীয় রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামীর সাম্প্রতিক অর্জনের কথা উল্লেখ করে তিনি আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তার ভাষ্য, এতে দলের ক্ষতি হয়নি, বরং লাভ হয়েছে। “প্রথমত, দেশে এই প্রথম জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে একটি অর্থবহ ঐক্য হয়েছে। দ্বিতীয়ত, জীবনে প্রথমবারের মতো প্রধান বিরোধী দলের জায়গাটি আল্লাহ তায়ালা আমাদের দান করেছেন। তৃতীয়ত, এবার আমরা ছয়টি শক্তির বিরুদ্ধে সমান্তরাল লড়াই করেছি। আগামী দিনেও এই সম্মিলিত শক্তির বিরুদ্ধে আমাদের কৌশল নির্ধারণ করে এগোতে হবে,” বলেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, এবারের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা প্রকাশ্যে বড় আকারে তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেননি। “কিছু কিছু জায়গায় আমরা সহায়তা চেয়েছি, তারা আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করেছেন,” যোগ করেন তিনি।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এখন আমাদের দ্বিতীয় লড়াই শুরু হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে। একটি জায়গাও যেন খালি না থাকে। যারা জীবন বাজি রেখে আমাদের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন, সমাজের সেসব জায়গা থেকে ভালো ও গ্রহণযোগ্য মানুষদের বের করে এনে তাদের হাতে দায়িত্ব তুলে দিতে চাই।”
প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে দলীয় পদ নয়, যোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতাকেই অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানান তিনি। “এটা জরুরি নয় যে আমাদের আমির বা সেক্রেটারি হতে হবে। জনগণের কাছে যিনি বেশি প্রিয়, তাকেই আমরা সামনে আনব। আমরা শুধু দুটি বিষয় দেখব—দেশপ্রেম ও স্বচ্ছতা। এই দুটি গুণ থাকলে দেশবাসীকে ভালো কিছু দেওয়া সম্ভব,” বলেন ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের আগের চিন্তা যাই থাকুক, নতুন মোড়কে সব সাজাতে হবে।”