ই-পেপার/প্রিন্ট ভিউ
অনলাইন ডেস্ক
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলাউদ্দিনকে কেন্দ্র করে একটি আপত্তিকর ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভিডিও ফাঁসের নেপথ্যে রয়েছেন তারই অফিসের নিরাপত্তা প্রহরী রাজু রায়।
ভিডিও ভাইরালের পর মো. আলাউদ্দিনকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে বদলি করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) এই প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। তবে কেন তাকে ওএসডি করা হয়েছে, প্রজ্ঞাপনে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি।
তদন্তে উঠে এসেছে, ২০২৩ সালের শেষ দিকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে শাল্লায় যোগদান করেন মো. আলাউদ্দিন। ২০২৪ সালের ৩১ মার্চ শাল্লায় ভারপ্রাপ্ত ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি এক বছর সেখানে দায়িত্ব পালন করার সময় রাজু রায় তার নিরাপত্তা প্রহরী হিসেবে দায়িত্বে থাকেন।
ভূমি অফিসের একটি সূত্র জানায়, এসিল্যান্ড থাকাকালীন আলাউদ্দিন জেলা পরিষদের ডাকবাংলোতে থাকতেন, যেখানে রাজু রায় তার দেখাশোনা এবং খাবার-দাবারের দায়িত্বে ছিলেন। দীর্ঘ সময় ঘনিষ্ঠতা তৈরি হওয়ায় রাজু বিভিন্ন সময় আলাউদ্দিনের ব্যক্তিগত ফোনালাপ শুনতে পারতেন। একদিন অফিসের ডেক্সটপে থাকা পেনড্রাইভে আপত্তিকর ভিডিও নজরে আসে রাজুর। সুযোগ নিয়ে তিনি পেনড্রাইভটি চুরি করে ৮–১০টি ভিডিও নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন।
পরবর্তীতে রাজু আলাউদ্দিনকে ব্ল্যাকমেইল করতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে রাজুকে বড় অঙ্কের টাকা এবং শাল্লা সদরের ডিসি খতিয়ানের দুটি বাজার ভিট দিয়েছেন ইউএনও। রাজুর চেষ্টা ব্যর্থ হলে ভিডিওগুলো সাংবাদিকদের হাতে দিয়ে ভাইরাল করে দেন।
রাজু রায় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ঘটনাটি অনেক আগের এবং তখনই ভিডিওগুলো মুছে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “ভিডিও সংক্রান্ত বিষয়ে আমি সমস্যায় আছি, দিনে ডিউটি করলে খরচাপাতির টাকা পাওয়া যেত, তাই রাতে ডিউটি করতে হচ্ছে।”
অন্যদিকে, মো. আলাউদ্দিন দাবি করেছেন যে ভিডিওগুলো সত্য নয়। তিনি বলেন, এগুলো তার সম্মানহানির উদ্দেশ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। আলাউদ্দিনের ফোন নাম্বার বর্তমানে বন্ধ রয়েছে এবং হোয়াটসঅ্যাপে কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।
সংবাদ প্রকাশের পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় তাকে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার ইউএনও পদ থেকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে বদলি করেছে। প্রজ্ঞাপনে সিনিয়র সহকারী সচিব মু. তানভীর হাসান সুমনের স্বাক্ষর রয়েছে।